সাফারি পার্কে ৯ জেব্রার মৃত্যু

133

আব্দুর রহমান,গাজীপুর থেকে : গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ৯টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি থেকে গতকাল ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত জেব্রাগুলো মারা যায়। ৯টি জেব্রার মৃত্যুর কারণ জানতে মঙ্গলবার সাফারি পার্কে বৈঠকে বসছেন বিশেষজ্ঞ দল। মঙ্গলবার সকালে জেব্রার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির।

তবে ২ জানুয়ারি থেকে পার্কে জেব্রার মৃত্যু হলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গোপন করে রেখেছিল। সর্বশেষ সোমবার রাতে পার্কে জেব্রার মৃত্যু বিষয়টি প্রকাশ পায়। প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়া, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণসহ নানা কারণে জেব্রাগুলোর মৃত্যু হতে পারে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার পার্কে বৈঠকে বসবেন বিশেষজ্ঞ দল। তিনি জানান, জেব্রা দল বেঁধে চলে।

মৃত্যুর আগ থেকে এদের মৃত্যুর কোনো রোগের উপসর্গ দেখা যায়নি। প্রাণীগুলো বন্য, এদের কাছে যাওয়া যায় না। হঠাৎ তারা দল থেকে আলাদা হয়ে পড়ে যায়, সাথে সাথে শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং পেট ফুলে গিয়ে মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। করোনা সন্দেহে পিসিআরল্যাবে মৃত্যু জেব্রাগুলোর নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্টগুলো নেগেটিভ এসেছে। এছাড়াও খাবারে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে এমন সন্দেহে খাবার গুলোও পরীক্ষা—নিরীক্ষা করা হয়েছে।

মৃত জেব্রাগুলোর ফুসফুস, লিভার, মৃত্যুর পর পেটে থাকা অর্ধগলিত খাবারগুলোর পরীক্ষা করা হয়েছে, যার রিপোর্ট চলে এসেছে। তবে জেব্রাগুলো যে খাবার খাচ্ছে তা পার্কে থাকা অন্যান্য প্রাণীগুলোও খাচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়ে অন্যান্য প্রাণীগুলোরও মৃত্যু হতে পারতো। তিনি আরও বলেন, মৃত্যু হওয়া জেব্রাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই মাদী জেব্রা অর্থাৎ ৯০ ভাগই মাদী জেব্রা। পার্কে জন্ম নেয়া জেব্রাগুলোর মৃত্যু বেশি হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেনারী অনুষদের তিনজন বিশেষজ্ঞ, ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর মো. শহিদুল্ল্যাহ্ ও গাজীপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ দলের একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানসহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। পার্কের নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই। বাইরে থেকে কেউ এসে বিষ প্রয়োগের সুযোগও নেই। সকল বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। তবে পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে মৃত্যুর কারণ।