সাফারি পার্কে ১১ জেব্রার মৃত্যু, পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

93

আব্দুর রহমান,গাজীপুর থেকে : গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে শনিবারে সকালে একটি মাদী জেব্রা মারা যায়,পরে আবার সন্ধায় আরেকটি জেব্রা মারা যায়। এ নিয়ে চলতি মাসে মৃত জেব্রার সংখ্যা দাঁড়ালো ১১টিতে। বর্তমানে পার্কটিতে ২০টি জেব্রা রয়েছে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান জানান, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ৩১টি জেব্রা ছিল।

গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে পর্যায়ক্রমে ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়। অবশিষ্ট ২০টি জেব্রার মধ্যে দুইটি জেব্রা গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ্যতা ভুগছিল। তাদের মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছিল। এদের পেট ফুলে যাওয়াসহ হাঁটতে সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই দুটির মধ্যে একটি মারা যায়, সন্ধায় আরেকটি জেব্রা মারা যায়। তিনি জানান, জেব্রাগুলোর অসুস্থতার খবর পাঠানো হলে শনিবার সকালে জাতীয় চিড়িয়াখানার অবসরপ্রাপ্ত কিউরেটর ড. এবিএম শহীদ উল্লাহ, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী অনুষদের সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নুর আলী খানসহ প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পার্কের উদ্দেশে রওয়ানা হন। তারা আসার আগেই জেব্রাটি মারা যায়।

পরে তারা মৃত জেব্রাটির পোস্টমর্টেম করেন। শনিবার সন্ধ্যায় পার্কের প্রকল্প পরিচালকসহ মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যদের জরুরী বৈঠক পার্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর জেব্রাটি মারা যাওয়ার কারণ প্রকাশ ও মৃত্যু প্রতিরোধে জরুরী পরামর্শ দিবেন। এদিকে জেব্রাগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং করণীয় বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আরও একজন বাড়িয়ে ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। পার্কসূত্র জানায়, প্রায় ৬০ একর আয়তনের আফ্রিকান কোর সাফারীতে সাত প্রকারের প্রায় ৭০টি প্রাণি রয়েছে। পার্কের বয়সের সঙ্গে প্রাণির সংখ্যাও বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু আয়তন বাড়েনি। ৭০টি প্রাণির জন্য কমপক্ষে তিনগুণ জায়গার প্রয়োজন। জেব্রা মারা যাওয়ার ঘটনায় বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা ১০ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোর সাফারীর পানির লেক থেকে পানি সেচে ফেলে দিয়ে নতুন পানি দেওয়া হচ্ছে, প্রাণিদের খাবার ট্রে—তে করে পরিবেশন করা হচ্ছে। কিছু প্রাণিদের ভ্যাকসিন ও কৃমিনাশক ওষুধসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে গত কয়েক বছর যাবত বিশেষ করে করোনা সময়ে জেব্রার অধিকতর প্রজনন ঘটে। যেভাবে জেব্রার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাতে কর্তৃপক্ষ অনেক আশাবাদী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা জেব্রা নানা সময়ে বংশ বিস্তারের পর পার্কটিতে এর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩১টিতে দাঁড়ায়।

এরমধ্যে ৯টি জেব্রা গত ২ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যায়। মারা যাওয়া জেব্রাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই মাদী জেব্রা। এ পার্কে জন্ম নেয়া জেব্রাগুলোর মৃত্যু বেশি হয়েছে। ওই ঘটনায় প্রাণি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দেশের বিভিন্ন ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে প্রতিবেদন সংগ্রহ করেন। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ২৩টি প্রতিবেদন নিয়ে বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল ২৫ জানুয়ারি পার্কের ঐরাবতী বিশ্রামগারে বৈঠক করেন। বৈঠকশেষে বিশেষজ্ঞরা জানান, মৃত ৯টি জেব্রার মধ্যে ৪টি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ইনজুরির কারণে এবং অপর ৫টি জেব্রা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের (ইনফেকশনাল ডিজিজে) কারণে মারা গেছে।