সবাইকে দেশের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে : শিল্প প্রতিমন্ত্রী

108

আব্দুর রশিদ: শিল্প প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ মজুমদার, এম.পি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হয়ে সবাইকে দেশের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে। গত ২৭ শে জুন, ২০২২ রোজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১৩ নং সেকশনে অবস্থিত বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজ প্রাঙ্গনে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীণবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ২০২২ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে কল্পনা করা যায় না। কারণ বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে হবে। শিল্প প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনা মহামারীর কবলে গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়পযোগী সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যার গতিশীল নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এবং এক সময়ের তথাকথিত তলাবিহীন ঝুড়ির দেশই এখন বিশে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি আরও বলেন শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাাধিকার দিয়ে ২০২২/২৩ অর্থ বছরের বাজেটে এই খাতে সর্বোচ্চ ৮১,৪৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। শিল্প প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কোভিড-১৯ চলাকালীন শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে সরকারের দিক নির্দেশনা মোতাবেক কোভিড-১৯ টিকা স্বাস্থ্যবিধী নিশ্চিত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে।

মজুমদার আরো বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে সর্বদা মাতা-পিতা ও শিক্ষক-শিক্ষিকার উপদেশ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। নিয়মিত ভালো ভাবে লেখাপড়া করে পরীক্ষায় গৌরবজ্জ্বল ফলাফল অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, রাজধানীর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজটি সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও একটি কুচক্রীমহল ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের এই অপচেষ্টা সফল হয়নি। সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিতের ন্যায় আগামী দিন গুলোতেও বিপদে আপদে সর্বদাই এই প্রতিষ্ঠানটির পাশে ছিলাম ও ভবিষ্যতেও থাকবো এবং প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। মজুমদার আরো বলেন, এস.এস.সি, এইচ.এস.সি ও অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলসহ সার্বিক বিবেচনায় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের রূপনগর শাখায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর নামে একটি আধুনিক ও বিশ্ব মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সকলকে সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানসহ সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধিসমূহ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে অন্যান্য অতিথিবৃন্দদেরকে সাথে নিয়ে শিল্প প্রতিমন্ত্রী অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জি.পি.এ-৫ প্রাপ্ত উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া ৩২ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। প্র

তিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৫,০০০/- টাকা করে নগদ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। সিনিয়র প্রভাষক মরিয়ম জামিলার সঞ্চালনায় এবং বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট কলেজের অধ্যক্ষ সুদীপ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ভদন্দ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো এবং স্বাগত বক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের রেক্টর প্রফেসর বাঞ্চিতা চাকমা বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ মতিয়া খান, কাফরুল থানার একাডেমিক সুপারভাইজর আছিয়া আক্তার, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ ও শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।