শ্রীলঙ্কায় বিক্ষোভকারী দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ (ভিডিও)

150

চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা। নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে পর্যটননির্ভর দেশটি। বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের অনুরোধে তারই বড় ভাই মহিন্দা রাজপাকসে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও থামেনি বিক্ষোভ ও সহিংসতা।

বিক্ষোভকারীরা মহিন্দা রাজপাকসের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বেশ কয়েকজন সরকারদলীয় নেতা-কর্মীর বাড়িঘরও আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারদলীয় একজন সাংসদের মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি হামলার শিকার হয়েছেন শ্রীলঙ্কার পুলিশের সিনিয়র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে মারধর করার ভিডিও ভাইরালও হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসেরও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে।

সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভের মুখে শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বো ত্যাগ করতেও বাধ্য হয়েছেন সদ্য প্রধানমন্ত্রীত্ব হারানো মহিন্দা রাজপাকসে। তার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, তিনি জীবন বাঁচাতে ত্রিঙ্কোমালির নৌঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার, ১০ মে ভোররাতে মহিন্দা রাজপাকসের বাসভবনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী একযোগে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে তার বাসভবন থেকে তাকে সরিয়ে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী।

শ্রীলঙ্কায় সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জরুরি ক্ষমতা তুলে দেওয়া করা হয়েছে। এদিকে সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে রাজাপাকসে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই নির্দেশ দেয় শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই নির্দেশ অনুযায়ী কাউকে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট অথবা মানবজীবনের ক্ষতি করতে দেখামাত্রই তাকে গুলি করতে পারবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শ্রীলঙ্কায় সোমবার বিক্ষোভে একজন সাংসদের মৃত্যু, আরেকজনের ওপর হামলা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ বহু নেতার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এদিন সহিংসতায় ৭ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার পরদিন সহিংসতাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার মতো কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জরুরি ক্ষমতা ন্যস্ত করায় তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করতে পারবে।

দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার পর কলম্বোতে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও পুরো শহরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

শ্রীলঙ্কায় হামলার শিকার হয়েছেন দেশটির পুলিশের সিনিয়র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে মারধর করার ভিডিও ভাইরালও হয়েছে।