শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ (ভিডিও)

64

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। এবারই প্রথম নয়, এর আগেও পাঁচবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর গদিতে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) বর্ষীয়ান এই নেতার।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মহিন্দ রাজাপাকসের ছোট ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহেকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

সরকারবিরোধীদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে গত সোমবার পদত্যাগ করেন মহিন্দা রাজাপাকসে। তার পরিবর্তেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তার স্থলাভিষিক্ত হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে।

চরম অর্থনৈতিক মন্দাবস্থায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শ্রীলঙ্কার আমজনতা। নজিরবিহীন ও রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে মহিন্দ রাজাপাকসেকে গদিছাড়া করেছে তারা। রনিল বিক্রমাসিংহে তার দেশ চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ঝুলিকে কাজে লাগিয়ে ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ জনতার আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশটিকে তীব্র সংকট থেকে মুক্ত করবেন- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

উল্লেখ্য, চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা। নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে পর্যটননির্ভর দেশটি। বিক্ষোভের জেরে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসে।

গত সোমবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের অনুরোধে তারই বড় ভাই মহিন্দা রাজপাকসে প্রধানমন্ত্রীত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও থামেনি বিক্ষোভ ও সহিংসতা।

বিক্ষোভকারীরা মহিন্দা রাজপাকসের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বেশ কয়েকজন সরকারদলীয় নেতা-কর্মীর বাড়িঘরও আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারদলীয় একজন সাংসদের মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি হামলার শিকার হয়েছেন শ্রীলঙ্কার পুলিশের সিনিয়র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল। প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজপাকসের পদত্যাগের পর বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজপাকসেরও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

মঙ্গলবার, ১০ মে ভোররাতে মহিন্দা রাজপাকসের বাসভবনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী একযোগে হামলা চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে তার বাসভবন থেকে তাকে সরিয়ে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী।

শ্রীলঙ্কায় সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জরুরি ক্ষমতা তুলে দেওয়া করা হয়েছে। এদিকে সহিংসতাকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে রাজাপাকসে সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এই নির্দেশ দেয় শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই নির্দেশ অনুযায়ী কাউকে সরকারি সম্পত্তি লুটপাট অথবা মানবজীবনের ক্ষতি করতে দেখামাত্রই তাকে গুলি করতে পারবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শ্রীলঙ্কায় সোমবার বিক্ষোভে একজন সাংসদের মৃত্যু, আরেকজনের ওপর হামলা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীসহ বহু নেতার ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এদিন সহিংসতায় ৭ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ২০০ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার পরদিন সহিংসতাকারীদের দেখামাত্রই গুলি করার মতো কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জরুরি ক্ষমতা ন্যস্ত করায় তারা যেকোনো লোককে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করতে পারবে।