শ্রীপুরে বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বেদেশী ফল স্ট্রবেরি

157

আরিফ মন্ডল, শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল স্ট্রবেরি। এই স্ট্রবেরি চাষ করে অনেকেই পেয়েছেন সাফল্য। উপজেলার বরমা, পেলাইল, গোদারচালা এলাকায় চাষ হচ্ছে স্ট্রবেরি।তাছাড়াও পাশের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে চাষ হচ্ছে স্ট্রবেরি। স্ট্রবেরি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। রঙ, গন্ধ ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় এটি সারাবিশ্বে সমাদৃত। শীতের দেশে স্ট্রবেরি ভালো হয়। গরমের দেশে গাছ হয় কিন্তু সহজে ফল হতে চায় না। কিন্তু গবেষকদের প্রচেষ্টায় এদেশে পরীক্ষামূলক ভাবে কিছু জাতের চাষ হচ্ছে। আমাদের দেশে এ ফলটি রবি মৌসুমে চাষের উপযোগী। দেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাসই ( সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর) স্ট্রবেরির রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল আহরণ করা যায়।

বরামা গ্রামের স্ট্রবেরি চাষী ইসরাইল মাষ্টার বলেন, আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করা সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা হতো। উনার পরামর্শে আমি বিদেশী ফল স্ট্রবেরি চাষে উৎসিহিত হই এবং ২০০৯ সালে আমার ছেলে মোশারফ হোসেন ময়মনসিংহ থেকে স্ট্রবেরি চাষের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।দেশে কোথাও ভালো জাতের চারা না পেয়ে দুই বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক হাজার স্ট্রবেরির চারা সংগ্রহ করি। প্রথম বছরে অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায় তারপর ও স্ট্রবেরি বিক্রি করে ভালো টাকা লাভ হয়।
বরামা গ্রামের স্ট্রবেরি চাষী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রথমে স্ট্রবেরি চারা কিনে ১বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেন। পর পর দুবছর তিনি স্ট্রবেরি চারা কিনে জমিতে রোপন করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই চারা উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেন। এ বছর তিনি ৪০ শতাংশ জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করছেন। তবে ভাইরাসের আক্রমনে অনেক চারা নষ্ট হয়েছে। তারপরও তিনি প্রতিদিন সকালে বাগান থেকে ১৫/২০ কেজি করে স্ট্রবেরি ফল সংগ্রহ করতে পারেন। রাজধানী ঢাকা, গুলশান,উত্তরা,গাজীপুর থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বাগান থেকে স্ট্রবেরি কিনে নিয়ে যায়। ফল অনুযায়ী প্রতি কেজি ৫শত থেকে ১ হাজার বিক্রি করা হয়। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। 

তেলিহাটি ইউনিয়নের গোদারচালা গ্রামের তোফায়েল জানান, স্ট্রবেরির চারা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রোপণ করা যায়। তবে নভেম্বর মাস স্ট্রবেরি চারা রোপণের জন্য সবচে ভাল। জমি তৈরির পর লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব হবে ৫০ সেন্টিমিটার ও প্রতি সারিতে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে স্ট্রবেরির চারা লাগাতে হয়। রোপনের দুই মাস পর থেকে ফল পাওয়া যায় এবং দুই মাস পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। বৃষ্টি হলে ক্ষেত থেকে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে দিতে হবে না হলে গাছ পঁচে যাবে। স্ট্রবেরি উৎপাদনে মাল্চ অপরিহার্য কারণ সরাসরি মাটির সংস্পর্শে এলে স্ট্রবেরির ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এবছর রাজশাহী ল্যাব থেকে স্ট্রবেরির চারা সংগ্রহ করি। এবছর ১ বিঘা জমিতে আবাদ করা হয়েছে ফল ভালো পাচ্ছি। তবে গাজীপুরের পরিবেশ ও মাটিতে সেঞ্চুয়েশন জাতের চেয়ে উইন্টারডন জাতের স্ট্রবেরি চারাগাছ ভালো ফলন হচ্ছে। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক বেশি।

পার্শ্ববর্তী উপজেলা কাপাসিয়ার সিংহশ্রী গ্রামের আরিফুল ইসলাম প্রধান জানান, আমি গত ৫/৬ বছর যাবত স্ট্রবেরি চাষ করছি। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মাটি ভালো হওয়ায় এখানে স্ট্রবেরি ফলন ভালো হয়। এইবার ভাইরাস আক্রমন ও হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আমার গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। যদি আর কোন ভাইরাসের আক্রমন না হয় তাহলে কিছুটা লাভবান হতে পারবো।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বছর গাজীপুরে ৮ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় ৬ হেক্টর ও কাপাসিয়া উপজেলার ২ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করা হয়েছে। স্ট্রবেরি চাষিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখিলে তাদেরকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।