শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

51
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে চক্রান্ত করেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে করেছে। আবার এখন নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসছে তখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে চক্রান্ত করেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে করেছে। আবার এখন নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসছে তখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে চক্রান্ত করেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে করেছে। আবার এখন নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসছে তখন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জোর ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ চতুর্দিক দিয়ে আসবে এবং আসছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অপরদিকে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক দুর্যোগ যেমন আসবে পাশাপাশি যেখানে ১০ বছরের ছোট্ট রাসেলকে পর্যন্ত খুন করলো আর সেই পরিবার থেকে বেঁচে এসে সরকারে আসলাম ও সাফল্য এনে দিলাম, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিলাম- এটা অনেকেই পছন্দ করবে না। কাজেই তারা তৎপর আছে সারাক্ষণই। আমি জানি, তাদের তৎপরতা অনেক বেশি। তাদের খবরও আমি রাখি। আমারতো অচেনা কেউ নেই। তারা তাদের চক্রান্ত করেই যাচ্ছে।

করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্যাংশন ও পাল্টা স্যাংশনকে কেন্দ্র করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদী ফেলে রাখা যাবে না। উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে নিজের ব্যবস্থা নিজেকেই করে রাখতে হবে। তিনি জানান, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে স্যাংশন ও পাল্টা স্যাংশনের কারণে প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জানি না, কারা লাভবান হচ্ছে এই যুদ্ধে। লাভবান হচ্ছে অস্ত্র প্রস্তুত ও সরবরাহকারীরা। আর মরছে সাধারণ মানুষ। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে সাধারণের আজকে কী মানবেতর জীবন! সেটাই সবচেয়ে দুঃখজনক।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে কার কী লাভ হবে জানি না। (এতে) বাংলাদেশের মানুষেরতো ক্ষতিই হবে। কারণ আমরাতো লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছি। যেমন বলেছি, একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। জাতির পিতা যে পদক্ষেপ শুরু করেছিলেন নোয়াখালী থেকে, আমি সেই দায়িত্বটা পালন করে যাচ্ছি। (বিনামূল্যে বিতরণের জন্য) আরও ৫৬ হাজার ঘর তৈরি হচ্ছে। এখানে (দেশে) আর কোনো ভূমিহীন থাকবে না। আমরা তাদের ঘর করে দেয়ার পাশাপাশি জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দেব। বাংলাদেশে একটা মানুষও আর ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁঁছে দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা সীমিত করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকা পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় করছে। আমরাও আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে বিপদে না পড়তে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কোটি মানুষকে আমরা স্বল্পমূল্যে খাবার দিচ্ছি। কোনো মানুষ যাতে কষ্টে না থাকে সেটাই আমাদের চেষ্টা। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ কাজ করেনি, করবেও না। অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখলকারী তারাতো ক্ষমতার চেয়ার কীভাবে দখলে রাখবে ওই চিন্তাতেই ব্যস্ত থাকে। আমার কাছে ক্ষমতাটা জনগণকে সেবা করার একটা সুযোগ। এটা (ক্ষমতা) থাকলে আছে, না থাকলে নাই। থাকলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাই এবং সুযোগটা যতদূর পারি কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আমি আমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তৃণমূল থেকে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য।

দুর্যোগকালে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকান্ডের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, দেশব্যাপী রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির কার্যক্রম বিস্তারে বরাবরের মতো সরকারের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী চার বছরের জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংস্থা আইএফআরসির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) এটিএম আব্দুল ওয়াহাবকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভয়াল ১৫ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, যে জাতির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সেই বাঙালি হয়ে কীভাবে ঘাতকরা জাতির পিতার বুকে গুলি চালিয়েছিলো? খুনী নূর, ডালিম, জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোস্তাক প্রায়ই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আসত। তারা আমার বাবা, মা, আমার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য এবং অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তারা গণমানুষের ভাগ্য অন্ধকার যুগে নিক্ষিপ্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, মানবতার কল্যাণে সেবা করার জন্য জাতির পিতা বাংলাদেশে রেডক্রস সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার পর সেই রেডক্রসেরই এক টুকরো কাপড়কে কাফন বানিয়ে তাকে দাফন করা হয়েছিল।