শাহজালাল মাজারেও বন্যার পানি, ভেসে যেতে পারে বিশালাকৃতির সব গজার মাছ (ভিডিও)

2807

সিলেট শহরের খাল বেয়ে সুরমা নদীর বন্যার পানি হজরত শাহজালাল (রা.) মাজারের চত্বর পেরিয়ে মাজারের নিচু অংশে ঢুকে পড়েছে।

সিলেট শহরের আম্বরখানা এলাকায় অবস্থিত এই মাজারের পেছনে পায়রা আবাসিক এলাকার রাস্তায়ও হাঁটুপানি জমে গেছে। শনিবার রাতেই মাজারে পানি উঠতে শুরু করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পানি বেড়ে মাজারের ভেতরে থাকা পুকুর তলিয়ে যেতে পারে। পুকুরটিতে বিশালাকৃতির অনেক গজার মাছ আছে। বন্যার পানির সঙ্গে সেগুলো ভেসে যাওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দরগাহ পুকুরের গজার মাছ সম্পর্কে প্রচলিত লোককাহিনী অনুসারে, হজরত শাহ জালাল (রা.) নিজে গজার মাছ পুষতেন। এজন্য জিয়ারতকারীসহ সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দরা আজও প্রথাগতভাবে গজার মাছের প্রতি বিশেষ স্নেহ প্রদর্শন করে থাকেন।

এদিকে রোববার, ১৯ জুন মাজারে আয়োজিত ওরসে অংশ নিতে আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছিলেন। বন্যার কারণে তারাও বিপদে পড়ে গেছেন। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর ওরসের আয়োজন করা হয়নি মাজারে। করোনার প্রকোপ কমে আসায় এবার ওরসের আয়োজন করা হয়েছিল।

বন্যার পানি বিভিন্ন বড় বড় বিপণি বিতানসহ বহুতল ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে ঢুকে পড়তে শুরু করেছে। এতে করে আন্ডারগ্রাউন্ড গাড়িপার্কিং ব্যাপক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এদিকে সিলেট শহরের বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি ঢুকে পড়ায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান চলাচল শুক্রবার থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পানি ঢুকে পড়ায় শনিবার দুপুর সিলেট রেলস্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে এখন সারাদেশের সঙ্গে আকাশ ও রেলপথে বিচ্ছিন্ন রয়েছে সিলেট। বিমানবন্দর ভিআইপি সড়ক ডুবে গেছে হাঁটু পানিতে। এছাড়া সিলেট নগরীর কিছু কিছু রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে যেখানে বিগত ৬০ বছরের মধ্যে কখনোই পানি ওঠেনি।

গত বুধবার থেকে সিলেটে শুরু হয় বন্যার প্রকোপ। পরদিন বৃহস্পতিবার বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সেদিন বিকেল থেকে দ্রুত গতিতে বন্যার পানি বাড়তে শুরু করে। এতে সিলেট শহরের অধিকাংশ এলাকাই পানিতে তলিয়ে গেছে।