শত্রুকে বশ করতে যৌনতা : সাবেক রুশ গুপ্তচরের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

89
শত্রুকে বস করতে যৌনতা : সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজার বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস
শত্রুকে বস করতে যৌনতা : সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজার বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

গুপ্তচর শব্দটি দারুণ রোমাঞ্চকর শোনালেও আদতে এই কাজের দায়িত্ব পালন করাটা ভীষণ কঠিন। আত্মপরিচয় গোপন রেখে শত্রুকে বশে এনে তার কাছ থেকে গোপন তথ্য বা নথি বাগিয়ে নেয়ার কাজটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। ধরা পড়ে গেলে কঠোরতম শাস্তির ভয় তো আছেই, সঙ্গে আছে জীবন হারানোর শঙ্কা।

নানা কৌশল অবলম্বন করে একজন গুপ্তচর তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এজন্য তাদের নিতে হয় এমন সব প্রশিক্ষণ যা হয়তো সাধারণ মানুষ কল্পনায়ও আনতে পারবেন না।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা এমনই এক তথ্য ফাঁস করেছেন সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা। তিনি জানিয়েছেন, কঠিন নানা প্রশিক্ষণের মধ্যে যৌনতার উদ্দাম নানা কলাকৌশলও শেখানো হয় গুপ্তচর বৃত্তির জন্য।

পরবর্তী সময়ে প্রশিক্ষণে শেখা সেই কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে যৌনতার ফাঁদ পাতা হয়। আর সেই পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ঘায়েল হয় শত্রুপক্ষ।

আলিয়ার বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। এখন অবসরে গেলেও একটা সময়ে পুতিন সরকারের গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন তিনি। তখন সবেমাত্র কৈশোর পেরিয়ে ১৮ তে পা দেন আলিয়া। ওই বয়সেই গুপ্তচর হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নেন তিনি। হরেক রকম প্রশিক্ষণের সঙ্গে উদ্দাম যৌনতার নানা কলাকৌশলও রপ্ত করতে হয়েছিল তাকে।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা

আলিয়ার ভাষায়, সেক্স টেকনিক রপ্ত করতে পারলে শত্রুকে বশে আনা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। নিজের রূপ ও সৌন্দর্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে প্রথমে টার্গেটের জন্য ফাঁদ পাততে হয়।

টার্গেট সেই ফাঁদে পা দিলেই যে সব কাজ শেষ তা কিন্তু নয়। কারণ শুধু রূপ দেখেই যে টার্গেট গোপন কোনো তথ্য ফাঁস করে দেবে তা আশা করা যায় না।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা

শত্রু ফাঁদে পা দেওয়ার পর যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তা হলো যৌনতা। টার্গেটের কাছ থেকে তথ্য উদ্ধার করতে চাইলে এমনভাবে অভিনয় চালিয়ে যেতে হয় যেন সে মনে করে সত্যিকার মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছে সে।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা বিন্দুমাত্র সন্দেহও যেন তার মনে না আসে সেজন্য প্রয়োজনে যৌন সম্পর্কেও জড়াতে হয়। তবে সেই যৌনতার মাঝে কোনো রকম খুঁত থাকা চলবে না। টার্গেট যেন অনুভব করে যে সে তার মনের মানুষের সঙ্গেই যৌনতায় মেতেছে।

নিখুঁত যৌনতা সহজ কাজ নয়। বিষয়টি হুট করে কেউ রপ্ত করতে পারে না। মূলত এ কারণেই গুপ্তচরদের যৌনতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের শেখানো হয় যৌনতার দুর্দান্ত নানা কলা-কৌশল।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা

প্রশিক্ষণের পর একজন গুপ্তচরকে মাঠে নামানো হয়। প্রশিক্ষণের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে দুর্বল কোনো মুহূর্তে টার্গেটকে আঘাত করেন গুপ্তচর। উদ্দাম যৌনতা আর বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে টার্গেটের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতিয়ে নেন।

সাবেক রুশ গুপ্তচর আলিয়া রোজা এমনই এক মিশনে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন জানিয়ে আলিয়া বলেন, একবার এমনই এক মিশনে গিয়েছিলাম। টার্গেটকে বশও করে ফেলেছিলাম।

কিন্তু শেষমুহূর্তে আমার পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। তারপর কোনোভাবে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলাম। সেই থেকে এই কাজকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে দিই। স্বাভাবিক জীবন শুরু করি।