লোহাগড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলা দিঘলিয়া সাহাপাড়ার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী,এমপি

124

মোঃ আলমগীর হোসেন, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া সাহাপাড়ায় সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি ও মন্দির পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি। 

এ সময় তাঁদের সাথে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, বীরেন শিকদার এমপি, অসীম কুমার উকিল এমপি, পংকজ দেবনাথ এমপি ও নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। 

মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা ঢাকা থেকে সড়কপথে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকজনদের সাথে কথা বলেন। 

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে মৌলবাদী গোষ্ঠী উঠে পড়ে লেগেছে। আর এই মৌলবাদী গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে একটি কুচক্রী মহল। যাদের বিরুদ্ধে সরকার এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী দিন গুলোতে শেখ হাসিনা সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ এবং হুমকির মুখে পড়বে। আপনারা ভয় পাবেন না, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে। তিনিই আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। আপনাদের জন্য সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় স্বপন ভট্রাচার্য্য বলেন, নির্বাচন আসলেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা, বাড়িঘর-দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মর্মাহত এবং এর তীব্র নিন্দা জানাই। 

পরে দিঘরিয়া সাহাপাড়া রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গনে মতবিনিময় কালে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা বলেন, শান্তি প্রিয় নড়াইলে যারা এ ঘৃণিত ঘটনার সাথে জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এসব ঘটনা দুর্বৃত্তদের উৎসাহ সৃষ্টি করে। আপনারা ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে মিলেমিশে বসবাস করবেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন খান নিলু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত পাল, নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন, সাধারন সম্পাদক  ও পৌর মেয়র সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী বনি আমিন প্রমুখ।

সাহাপাড়া পরিদর্শন শেষে বিকালে মন্ত্রী ও এমপিসহ নেতৃবৃন্দ লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের হল রুমে প্রশাসনের উদ্যোগে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার্থে সকল অংশীজনের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা, সুধীজন, শিক্ষক, সাংবাদিক, উপজেলা ইমাম পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও  হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন বাম গনতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও ইউনাইটেড কমিউনিষ্ট লীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সিপিবির সাধারন সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স,বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারন সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ (মার্কসবাদী) সীমা দত্ত, জাতীয় শ্রমিক জোটের জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ,জেলা ওয়ার্কার্স পাটির সম্পাদক এ্যাড. নজরুল ইসলাম প্রমুখ। পরে এ্যাডভোকেট বিভাস চন্দ্র বিশ্বাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কথা বলেন।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ঘর ও মন্দির সংস্কার বাবদ ঢেউটিন, নগদ টাকা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ আবু হেনা মিলন জানান, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। 

সাম্প্রদায়িক হামলা মামলায় সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোমান মোল্যাকে  (২৬) গ্রেফতার করেছে। রোমান কুমড়ি পশ্চিম পাড়ার আবু তালেব মোল্যার ছেলে। 

লোহাগড়া থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, আটক রোমানের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এ নিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ও মন্দির ভাংচুর মামলায় মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই দিঘলিয়া সাহাপাড়ার ব্যবসায়ী অশোক সাহার ছেলে আকাশ সাহার ফেসবুক থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে কটুক্তি করে পোষ্ট দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষুদ্ধ লোকজন সাহাপাড়ার ৫-৬টি বাড়িঘর ও ৬টি দোকান ঘরসহ চারটি পূজামন্ডপ ভাংচুর করে ও একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিক্ষুদ্ধ লোকজনকে লাঠিপেটা করে এবং টিয়ারশেল ও শর্ট গানের ফাঁকা গুলি ছোড়ে।