রাজবাড়ীতে কোরবানী উপলক্ষে সাড়ে ৩৬ হাজার পশু প্রস্তুত

85
রাজবাড়ীতে কোরবানী উপলক্ষে সাড়ে ৩৬ হাজার পশু প্রস্তুত
রাজবাড়ীতে কোরবানী উপলক্ষে সাড়ে ৩৬ হাজার পশু প্রস্তুত

শেখ রনজু আহাম্মেদ রাজবাড়ী প্রতিনিধি : ৩৫ মন ওজনের এলাকার টাইগার, ২৮ মন ওজনের রাজা বাবু, ২৫ মন ওজনের কালু মাস্তান এবারের কোরবানীর হাট কাপাতে প্রস্তুত করেছে স্থানীয় ৩ কৃষক। রাজবাড়ীতে এ বছর কোরবানী উপলক্ষে ৩৬ হাজার ৫শত ৭০টি পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাজবাড়ী জেলা প্রাণী সম্পদ ভিবাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের আখরজানী গ্রামের জুলমত আলী মন্ডলের ছেলে কৃষক মিজানুর রহমান। তিনি ৩ বছর পূর্বে স্থানীয় লাড়িবাড়ী বাজার থেকে ৭৩ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরু ক্রয় করেন। প্রতিদিন সকালে ২ কেজি ছোলা, ২ কেজি চিড়া, ২ কেজি চালের ভাত, ৮ কেজি ছাল, কাচা ঘাস ও খড় পরিমান মতো এবং রাতেও একই খাবার খাওয়ানো হয়। গরুটিকে প্রতিদিন ৩-৪বার গোসল করাতে হয়। এ ভাবে প্রতিদিন খাওয়ানোর পর আজ ৩৫ মন ওজনের এলাকার টাইগার হিসেবে তৈরী করতে পেরেছি। ১০ লক্ষ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ভালো দাম পেলে গরুটি বিক্রি করবো। 

কৃষক জুলমত আলী মোল্যা বলেন, গরুটিকে সন্তানের মতো যতœ করে পালন করা হয়েছে। ১০ লক্ষ টাকার কমে বিক্রি করলে লাভ হবে। ক্রয়কৃত খাবারের কারণে দাম বেশি হচ্ছে। 

পাশের মেড়রা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে ফারুক খান। তিনিও ৪ বছর ধরে গরু পালন করেন। এ বছর কোরবানী উপলক্ষে ২৮ মন ওজনের রাজা বাবুকে তৈরী করেছেন। ৮লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে চান রাজা বাবুকে। ইতিমধ্যেই গরু ক্রয়ের খরিদ্দার আসতে শুরু করেছেন। ভালো দাম পেলেই বিক্রি করবেন। 

পার্শ্ববর্তী মন্টু বিশ্বাসের ছেলে সাবু বিশ্বাস। তিনিও তৈরী করেছে কালু মাস্তান নামে ২৫ মন ওজনের একটি গরু। গরুটি ১৬ মাস আগে ৬০ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। ক্ষেতের পিয়াজ ও অন্যান্য ফসল বিক্রি করে গরুটিকে খাওয়ানোর খাদ্য ক্রয় করে আসছেন। ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে চান। 

মন্টু বিশ্বাস বলেন, বর্তমান গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে ঘাসের ক্ষেত করেছি। এতে করে একটি সাশ্রয় হবে। এ এলাকার অনেকের বাড়ীতেই বড় বড় গরু ও ছাগল কোরবানী উপলক্ষে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। 

রাজবাড়ী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খায়ের উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোরবানীকে সামনে রেখে জেলার ৫টি উপজেলাতে ৩৬ হাজার ৫শত ৭০টি কোরবানীর পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গরু পালনের উৎসাহিত করতে আমরা কৃষকদের ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করাসহ বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা করে আসছি।