রাজধানীর ২৩ লাখ মানুষকে কলেরা টিকা খাওয়াবে সরকার

0
104
দুই ডোজের এই কলেরার টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ডোজ খাওয়ানো হবে মে মাসে। সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ডোজ টিকা খাওয়ানো হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে জুন মাসে।
দুই ডোজের এই কলেরার টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ডোজ খাওয়ানো হবে মে মাসে। সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ডোজ টিকা খাওয়ানো হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে জুন মাসে।
Spread the love

করোনা টিকাদানে ব্যস্ততার মাঝেই কলেরার টিকা খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজধানীর ২৩ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রাজধানীসহ সারাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় টিকা খাওয়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে কলেরা টিকার বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগনিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

নাজমুল ইসলাম জানান, দুই ডোজের এই কলেরার টিকাদান কর্মসূচির প্রথম ডোজ খাওয়ানো হবে মে মাসে। সব মিলিয়ে ২৩ লাখ ডোজ টিকা খাওয়ানো হবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে জুন মাসে।

গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছরের বেশি বয়সী সবাইকে এই টিকা দেওয়া হব। প্রথম ধাপে রাজধানীর ৫টি এলাকায় টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এলাকাগুলো হলো : মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, দক্ষিণখান ও সবুজবাগ।

টিকা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাজমুল ইসলাম বলেন, টিকা কার্যক্রম নিয়ে আমরা এখনও কাজ করছি। টিকা নিতে হলে আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট তারিখ ও কেন্দ্র বাছাই হলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিকটস্থ কেন্দ্রে গেলেই টিকা নেওয়া যাবে।

নাজমুল ইসলাম জানান, ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার কারণ নির্ণয় ও সমাধানে ওয়াসার সঙ্গে আলোচনা চলছে। ডায়রিয়া হঠাৎ কোনো সমস্যা নয়। এটা প্রায়ই হয়। এটি নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পানিতে কোনো সমস্যা থাকলে ওয়াসা সেটি দেখবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও তাদের সেবা চালিয়ে যাবে।

নাজমুল ইসলাম আরও জানান, সারাদেশে মোট ৪,৫২৮টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০০ মিলি ব্যাগ আইভি স্যালাইন মজুত আছে ৩ লাখ ৩০ হাজারটি, ১০০০ মিলি ব্যাগ আছে ৪ লাখ। এছাড়া ১০০০ মিলি ব্যাগের আরও ১ লাখ ৬০ হাজার আইভি স্যালাইন শিগগির কেনা হচ্ছে।

এসময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম জানান, ডায়রিয়ার প্রকোপ কমাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে খাবার স্যালাইন খেতে হবে। পাশাপাশি নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। জেলা-উপজেলাসহ প্রতিটি হাসপাতালই প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ডায়রিয়া হলেই আইসিডিডিআরবি হাসপাতালটির নাম মাথায় চলে আসে। কারণ এই হাসপাতালটির নাম আগে ছিলো কলেরা হাসপাতাল। এই কারণে মানুষ হাসপাতালটিতে ভিড় জমাচ্ছে। কিন্তু আমাদের প্রতিটি হাসপাতালই ডায়রিয়া চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে