রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না জরিমানার অর্থ

162
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না জরিমানার অর্থ
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না জরিমানার অর্থ

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আদায় করা অর্থদণ্ড ও জরিমানা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে কেউ জমা দিচ্ছে দেরিতে, কেউ আবার জমাই দিচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। অর্থ বিভাগ বলেছে, এ জাতীয় চর্চা ‘আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী’ এবং আদায় করা অর্থ এখন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে।

অর্থ বিভাগ ১৮ জানুয়ারি এ ব্যাপারে একটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কোনো কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার অধীনে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থদণ্ড ও জরিমানার অর্থ যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না।’ এসব অর্থ আদালতের মাধ্যমে আদায় করা হবে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়।

মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯-এর আওতায় আদায় করা অর্থদণ্ড এবং অন্যান্য অর্থ ‘এ-চালান’ পদ্ধতিতে জমা দিতে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আলাদা অর্থনৈতিক কোড রয়েছে। এ-চালান হচ্ছে অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় চালান পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ও বিভিন্ন মাশুল সহজে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া যায়। এ-চালান ব্যবহার করে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা জমা দেওয়া যায়।

রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না জরিমানার অর্থ
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না জরিমানার অর্থ

পরিপত্রে বলা হয়েছে, জরিমানার কোড ১৪৩১১০১, বাজেয়াপ্তকরণের কোড ১৪৩১১০৩ এবং বাজেয়াপ্ত দ্রব্য বিক্রি করে আদায় করা অর্থের কোড ১৪৩১১০৪। বাজেয়াপ্ত দ্রব্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এ-চালান পদ্ধতিতে জমা দেওয়ারও অর্থনৈতিক কোড রয়েছে দুটি। এগুলো হচ্ছে ১১১১১০১ এবং ১১৪১১০১।

কোন দপ্তর কীভাবে অর্থ জমা না দিয়ে থাকছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান,

শুধু জমা হচ্ছে না তা নয়, টাকা আত্মসাৎও করছেন কেউ কেউ।

উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন,

ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করেন ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহাসহ সংশ্লিষ্ট নাজির ও পেশকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির এক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানার অর্ধেক টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন তাঁরা।