“মূত্রনালীর সংক্রমণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। || দৈনিক তৃতীয় মাত্রা || লাইফস্টাইল”

208

শুধুই মহিলা নয়, বরং পুরুষদের মধ্যেও মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। জেনিটো ইউরিনারি ট্র্যাক্টে উপস্থিত সংক্রমণের ব্যাক্টিরিয়া প্রজননে সক্ষম অঙ্গ ও প্রস্টেট গø্যান্ডে প্রসারিত হতে পারে, যা বীরে‌্যর গুণ ও পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

মূত্রনালীর সংক্রমণ বা টঞও (ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশান) দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সর্বাধিক ঝুঁকির মুখে রয়েছেন মহিলারা। এই সংক্রমণ আবার মহিলাদের প্রজনন ক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। আপনারাও যদি এর দ্বারা ঘন ঘন সংক্রমিত হন, তা হলে এর প্রতিরোধের উপায় ও চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

পুরুষ ও মহিলা উভয়েই মূত্রনালীর সংক্রমণ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন। মূত্রাশয়ের সঙ্গে জড়িত অঙ্গ, যেমন কিডনি, মূত্রনালী, বøাডার এবং লিভার-এ এই সংক্রমণ হতে পারে। মহিলাদের মূত্রনালী ছোট হওয়ায় তাঁরা শীঘ্র মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন।

টঞও-র ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি দেখা দেয়
১. বার বার মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা।
২. দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব।
৩. অল্প পরিমাণে প্রস্রাব হওয়া।
৪. পিঠ ও পেলভিসে ব্যথা।
৫. প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেওয়া (লাল ও উজ্জ্বল গোলাপী রঙের প্রস্রাব)।
৬. রংহীন প্রস্রাব।

টঞও কী ভাবে প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে?
কিছু কিছু মহিলা ঘন ঘন মূত্রনালীর সংক্রমণের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়েন।কখনও কখনও এই সংক্রমণ আবার উর্ধ্বাংশের মূত্রনালী এবং কিডনি, ফ্যালোপিয়ন টিউব এবং ইউটেরাসের মতো অঙ্গকে প্রভাবিত করে।

আবার কোনও মহিলা যদি ক্লামিডিয়া, সিফিলিস ইত্যাদির মতো ব্যাক্টিরিয়া জনিত সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিসিসের কারণে টঞও-র শিকার হয়, তা হলে এই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়।

এর ফলে পেলভিক ইনফ্লেমেটারি ডিসিস হতে পারে, যা আবার ফ্যালোপিয়ান টিউবকে গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে মহিলাদের গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। আবার টঞও-র কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিডনি রোগ দেখা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, এই সংক্রমণ ওভুলেশান প্রক্রিয়া-সহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

কোনও মহিলার ১২ মাসে ৩ বার মূত্রনালীতে সংক্রমণ দেখা দিলে এটি পরবর্তীকালেও বারংবার ঘটবে। ই কোলাই ব্যাক্টিরিয়া মূত্রনালীতে প্রবেশ করে এবং ইউরিনারি বøাডারকে সংক্রমিত করলে বারংবার মূত্রনালী সংক্রমিত হয়।

তবে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের পিছনে একা মূত্রনালীর সংক্রমণ দায়ী নয়। বারংবার মূত্রনালীর সংক্রমণের ফলে পেলভিক ইনফ্লেমেটারি ডিসিস দেখা দিলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাধাপ্রাপ্ত হয়। বহু ক্ষেত্রে ডায়বিটিসও মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণ হতে পারে, যা গর্ভধারণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

পুরুষরা সাধারণত মহিলাদের দ্বারা টঞও-তে সংক্রমিত হন না, কারণ সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাক্টিরিয়া তাঁদের মূত্রনালীতে উপস্থিত থাকে।

তবে তাঁরা যৌন মিলনের সময় নিজের সঙ্গীকে এর দ্বারা সংক্রমিত করতে পারে। এ কারণে পুরুষদের টঞও-র পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো উচিত।

মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায়

১. বেশি করে পানিপান করুন
শরীর থেকে টক্সিন নির্গত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। বেশি করে পানি পান করলে প্রস্রাবের রঙ ফিকে হবে এবং এতে অ্যাসিডের পরিমাণও কমবে। সমীক্ষা অনুযায়ী মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত অধিকাংশ মহিলারা কম পরিমাণে জল পান করে থাকেন।

২. কমফর্টেবল আন্ডারওয়্যার পরুন
টাইট আন্ডারওয়্যার ব্যাক্টিরিয়ার বেঁচে থাকার জন্য আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে। তাই ঢিলেঢালা বা কমফর্টেবল আন্ডারওয়্যার পরা উচিত।

৩. যৌন সঙ্গমের পর মূত্রত্যাগ করুন
যৌন মিলনের পর মূত্রত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এর ফলে সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাক্টিরিয়াগুলিকে শরীর থেকে বের করে দেওয়া যাবে।

৪. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
সুলভ শৌচালয় বা কোনও পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের ফলে নানান ধরনের সংক্রমণ হতে পারে। তাই প্রস্রাব বা পায়খানার পর অগ্র ও পশ্চাৎভাগ ভালো ভাবে মুছে নেওয়া উচিত, যাতে মূত্রাশয়ে কোনও ব্যাক্টিরিয়া প্রবেশ করতে না-পারে।

৫. প্রস্রাব চেপে রাখবেন না
প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস থাকলে, তা ত্যাগ করুন। কারণ এর ফলে পেটে ব্যথা হতে পারে। মূত্রত্যাগ করলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায় এবং বøাডারও হাল্কা হয়।

উল্লেখ্য, কখনও কখনও টঞও-কে সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যা বন্ধ্যাত্ব সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে।

কোনও লক্ষণ দেখলে, দেরি না-করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সংক্রমণের সঠিক কারণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।

আপনার গর্ভধারণ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করার আগেই টঞও প্রতিরোধ করুন।