মিরসরাইয়ে ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

57

মিরসরাই প্রতিনিধি : মিরসরাইয়ে ৬ বারের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম হত্যা মামলার প্রধান আসামী ইউপি সদস্য বেলালকে গ্রেপ্তার ও খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় স্থানীয় খেয়ারহাট বাজারে আয়োজিত  মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

সাহেরখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী, সমাজসেবক বদরুদ্দৌজা, ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান এবাদী, মায়ানী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবু জাফর, সাহেরখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম , ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ারুল হক, নিহতের সন্তান বদরুদ্দৌজা তারেক, মঘাদিয়া সাউথ এডুকেশন এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি নুর ইসলাম।

কাশেম হত্যাকান্ডের ১২দিন অতিবাহিত হলেও  মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী স্থানীয় শাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বেলাল হোসেনকে রহস্যজনক কারণে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে মানববন্ধনে বলা হয়। এসময় বক্তারা  দাবি করেন, ইউপি সদস্য বেলাল ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাকে অতি শীঘ্রই গ্রেপ্তার করতে হবে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।

মানবন্ধনে অংশ নেয়া নিহত আবুল কাশেমের ছেলে বদরুদৌজা তারেক বলেন, ‘ইউপি সদস্য বেলালের নেতৃত্বে আমার বাবাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে এবং একটি মহল খুনী বেলাল ও তার সহযোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ ১নং আসামি বেলাল প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার মতো আর কেউ যেন এমনভাবে পিতৃহারা না হয় তার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি এবং খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

সর্বস্তরের জনতা, সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী ও ইউপি সদস্যরা এই মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নিহতের পরিবারের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১০টায় উপজেলার শাহেরখালী খালের কাঁদামাটি থেকে ছুরিকাহত অবস্থায় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর গত ৩১ জানুয়ারি (সোমবার) আবুল কাশেমের স্ত্রী বাদি হয়ে মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন মঙ্গলবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর বেলায় চমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেম মারা যান। এরপর মামলার এজাহারভূক্ত আসামীদের মধ্যে ৩ জন এবং জড়িত সন্দেহে আরো একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়।