মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলাতে পারছেনা

54
মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলাতে পারছেনা
মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলাতে পারছেনা

মাসুদ রেজা ফিরোজী,মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি: এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জমজমাট ব্যবসা ছিলো মাদারীপুরে তা এখন আর নেই। এখন আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলাতে না পারায় এ শিল্প আর টিকে থাকতে পারছেনা। এ যুগে মেলামাইন, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যে তাদের বাজার এখন দখল করে নিয়েছে। আগে মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিস

যেমন পিঠার সাজ, হাঁড়ি, মালসা, জালের কাটি, পুতুল, মাছ, পেয়ালা, সুরাই, কলস, ফুদানিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বাজারে পাওয়া যেত। যা ক্রেতাদের বেশি আর্কষণ করতো

। দেখা যেত অনেকে শখের বসে এগুলো কিনে বাড়িতে নিয়ে যেতেন। এখন করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন সমস্যা কারণে সেই সাথে রয়েছে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পটি এখন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

এ শিল্পের প্রধান উপকরণটি হচ্ছে মাটি। কুমাররা আঠালো পরিষ্কার এঁটেল মাটি দিয়ে তাদের হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান দ্বারা পিঠার সাজ, হাঁড়ি, মালসা, জালের কাটি, পুতুল, মাছ, পেয়ালা, সুরাই, কলস, ফুলদানিসহ নানান জিনিস সহজেই তৈরী করেন। একাজ অনেক যত্নসহকারে আর শ্রম দিয়ে কুমাররা করে। যা তাদের কাছে এসব

কাজ খুব সহজ। মাদারীপুরের কুমারা এসব কাজ বংশ পরম্পরায় করে আসছেন। এখন এ যুগের সাথে তাল মিলাতে না পারায় আগের মতো তাদের ব্যবসা জমজমাট আর নেই। মাদারীপুরের পুরান বাজারের স্বর্ণকার পট্টি এলাকার দোকান গুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কুমারদের তৈরী করা সেইসব জিনিসপত্র কিন্তু ক্রেতার অভাবে এখন

অনেক দোকানদারা অলস সময়ে দিনপার করছেন। কালের বিবর্তণের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মেলামাইন, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের ভিড়ে মাদারীপুরের শত শত বছরের ঐতিহ্যের মৃৎশিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। মাদারীপুরে এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত মৃৎশিল্প পরিবারগুলো এখন মানবতার জীবনযাপন করছেন।


এ মৃৎশিল্পকে যদি বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে এবং সঠিক পৃষ্ঠপোষকতায় এ শিল্পটি উঠে দাড়াবে এমনটি আশা করছেন কুমারা। তাদের ব্যবসাটি আগের মতো জমজমাট হবে।

মৃৎশিল্পের দোকানদার সজল সাহা বলেন, সরকার থেকে যদি সাহায্য সহযোগিতা করত তা হলে আমরা বেচে যেতে পারতাম। প্রতিদিন একশত থেকে দুইশত টাকার বিক্রিতে আমাদের সংসার চলে না।

এ বিষয় মাদারীপুর শহরের সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা শ্যামল পান্ডে জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রাণতিক জনগোষ্ঠীর জরিপ কাজ এখন চলছে