কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান

77
কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান
কুরআন নাজিলের মাস মাহে রমজান

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার : মহান রাব্বুল আলামিন মানুষকে যে জীবন বিধান দিয়েছেন সেটাই হল ইসলাম।ইসলামকে পুনাঙ্গও প্রগতিশীল জীবন ব্যবস্থা এবং ইসলাম সর্বকালে সর্বাঙ্গ সুন্দর আধুনিক জীবন ব্যবস্থা।

ইসলাম যে পাঁচটি বুনিয়াদের উপর সংস্থাপিত তার অন্যতম হচ্ছে রমজান মাসের সিয়াম। আর এই সিয়াম বিধান দিয়ে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোনআনের সূরা বাকারার১৮৩ নং আয়াতে ইরশাদ করেন‘‘ওহে তোমরা যারা ইমান এনেছ তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হল,যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী গনের উপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে করে তোমরা মোক্তাকী হতে পার”।

এই আয়াতে কারিমায় এটা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন নবীর উম্মতের জন্য বিভিন্ন সময়েও মাসে রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যেমন হযরত আদম (আঃ)এর উম্মতের জন্য প্রত্যেক চন্দ্র মাসের১৩,১৪ও১৫ তারিখে রোজা রাখা ফরজ ছিল। বনি ইসরাইলের উম্মতের জন্য হযরত মুসা(আঃ) চল্লিশটি রোজা রেখেছিলেন।

যার শেষ রোজাটি ছিল আশুরার দিন। হযরত ইশা(আঃ)পবিত্র ইঞ্জিল কিতাব পাবার চল্লিশ বছর পূর্ব থেকেই রোজা রেখেছিলেন। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন।

রমজান এমন একটি মহিমাময় ওগৌরবমন্ডিত মাস যে মাসে কোরআন মজিদ নাজিল হয়েছে। বিশ্বমানবতার সর্বশ্রেষ্ট মুক্তি সনদ সর্বযুগের সর্বদেশের সর্বজাতীর সর্বাঙ্গীন জীবন ব্যবস্থার অপরিবর্তনীয় বিধান গ্রন্থ আল কোরআন যে মাসে নাজিল হয় সে মাসের পবিত্রতা ওপূন্য মহাত্মাও মহিমা নিঃসন্দেহে অতুলনীয় বিবেচিত হয়।

শুধু কোরআন শরীফই নয়। মুসলমানের বিশ্বাস করে যে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব সহীফা সমূহও এই রমজান মাসেই নাজিল করা হয়। রমজান মাসের(১কিংবা৩ তারিখে)হযরত ইব্রাহীম আঃ সহীফা লাভ করেন।

রমজান মাসের ৩ তারিখে হযরত দাউদ আঃ নিকট যবুর নাজিল হয় এই মহান মাসের১৮ তারিখে হযরত ইসা আঃ ইঞ্জিল লাভ করেন এই মহিমান্বিত মাসের১২ তারিখে। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সঃ দ্ব্যার্থহীন ভাষা ঘোষনা করেছেন যে(এপবিত্র মাসে)বেহেস্তের দরজা গুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ থাকে। এবং শয়তানকে(তার সহচরদের)শৃংখলা বদ্ধ করে রাখা হয়(বুখারীও মুসলীম)এই থেকেই সহজেই অনুমিত হয় রমজান মাসের গুরুত্ব,পবিত্রতা মহাত্মা কত অপরিসীমও অতুলনীয়।

রমজান শব্দটি এসেছে রমজ শব্দ থেকে রমজ শব্দের অর্থ হল জালিয়ে দেয়া,দগ্ধ করা রমজানের রোজা মানুষের মনের কলুষ কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মলও পবিত্র করে তোলে।পাপ রাশিকে সম্পূর্ন রূপে দগ্ধ করে মানুষেকে করে তোলে পূন্যবান। রোজা একটি ফারসী শব্দ আরবী ভাষায় রোজাকে সিয়াম বলা হয়।

সিয়াম শব্দের বহু বচন হল সাত্তম এখানে উল্লেখ্য যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকাও সংযম পালন ইসলামে রোজা বা সিয়াম নামে অভিহিত হয়।

দুঃখ জনক হলেও সত্য যে একথা অনেকেই জানে না যে সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষুধার্তও পিপাসার্ত থাকার মানেই রোজা নয়।এই গুলি সিয়াম সাধনার বাহ্যিক অনুষ্ঠান মাত্র।শুধু মাত্র খাদ্যও পানীয় পরিহার করা এবাদত বলে ইসলামে বিবেচিত হতে পারে না।এই ইবাদতের জন্য প্রয়োজন তাকওয়া,

যাতে করে মানুষ মোত্তাকীও পরহেজগার হইতে পারে।এই তাকওয়াই হচ্ছে সিয়ামের সার বস্তু,রোজার আসল কথা। হযরত উমর(রাঃ)কাব আল আহবার(রাঃ)কে জিজ্ঞাসা করেন,তাকওয়া কি?উত্তরে কা’ব(রাঃ)জিজ্ঞাসা করেন,

আপনি কি কখনও কষ্টাকাকির্ন পথে চলেছেন?তখন কি পন্থা অবলম্বন করেন?হযরত উমর রাঃ বলেন,আমি সতর্ক হয়ে কাপড় গুটিয়ে চলেছি।কা’ব রাঃ বলেন ইহাই তাকওয়া। পৃথিবীতে চারিদিকে পাপ পংকিলতার কাটা ছড়ানো হয়েছে তা থেকে সর্তক ভাবে নিজেকে বাচিয়ে চলার নাম হল তাকওয়া,তাকওয়ার গুনে বিভূষিত ব্যক্তিকে বলা হয় মোক্তাকি হযরত মুহাম্মদ সঃ দ্বার্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বা অন্যায় কাজ কর্ম পরিত্যাগ করিবে না, তাহার শুধুমাত্র খানা-পিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।এ ধরনের হতভাগ্য রোজাদারদের প্রসঙ্গে তিনি ঘোষনা করেছেন‘‘অনেক রোজাদার এমন আছো যাদের ভাগ্যে ক্ষুধাও পিপাসা ছাড়া অন্য কিছু জোটেনা।

তেমনি রাত্রিতে এবাদত কারী এমন অনেক মানুষ আছে যারা রাত্রি জাগরন ব্যতিত আর কিছুই লাভকরতে পারে না।এই হাদিস দুটি থেকে সহজেই প্রতিয়মান হয় যে,ক্ষুধাও পিপাসা প্রকৃত এবাদতের অবলম্বন মাত্র। কিন্তু প্রকৃত এবাদত‘তাকওয়া’মাধ্যমে নিজের নফ্সকে দম্ম করার আন্তরিক প্রয়াসের মাধ্যমেই সাধিত হয়ে থাকে।যে ব্যক্তি সর্বাস্ত করনে এ প্রয়াস গ্রহন করে না তার রোজা রাখার কোন স্বার্থকতা নেই।

৬১০খৃষ্টাব্দে রমজান মাসে কোরআন মাজিদ নাজিলের সূচনা হয় এবং বিভিন্ন প্রোপটে খন্ডে খন্ডে নাজিল হতে থাকে। হযরত মুহাম্মদ (সঃ)১২বছর পর আল্লাহর নির্দেশে মদিনায় হিজরত করে এসে,সেখানে একটা নগর রাষ্টের পত্তন করেন। মসজিদে নববী স্থাপন করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য মদিনার অধিবাসী সব সম্প্রদায়কে ঐকমতো এনে একটি শাসনতন্ত্রও প্রনয়ন করেন। অর্থনৈতিক বিধানও প্রদান করেন যাকাত বিধান নাজিল হলো অর্থাৎ একটা আদর্শ কল্যান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো।

হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের১৫ সাবান কিবলা পরিবর্তন করে মক্কা মুকাররমা মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের বিধান হলো।এবং নাযিল হল সিয়াম বিধান।পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার১৮৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে। ‘‘রমজান মাস এতে নাযিল হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শনও সত্য ওঅসত্যের মধ্যে পার্থক্য কারী আল কুরআন।

সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস প্রত্যক্ষ করবে তারা যেন এতে সিয়াম পালন করে।২য় হিজরীর পহেলা রমাদান মোতাবিক৬২৪ খৃষ্টাব্দের পহেলা মার্চ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী প্রিয় নবী(সাঃ) ও সাহাবায়ে কিরাম(রাঃ)সর্ব প্রথম রমদানের সিয়াম পালন করা শুরু করেন।এরই আগের দিন অর্থাৎ সাবান মাসের শেষ দিনে তিনি সাহাবায়ে কিরামের সমাবেশে এক দীর্ঘ খুতবা দেন।

সেই খুতবায় তিনি বলেন‘‘হে মানুষ তোমাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান প্রাচুর্য মাস,এই মাসেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উক্তম এক রজনী।এই মাসের সিয়াম কেই আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন। এর রাতে দন্ডায়মান হওয়াতে (তারাবীর সালাত আদায়ে) রয়েছে সওয়াব।