ভারতে রাজকীয় প্রাসাদসহ অঢেল সম্পদ পিকে হালদারের (ভিডিও)

75

অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বিপুল অংকের অর্থ গিলেই ক্ষান্ত হননি পিকে, বিদেশে পাচার করেছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হন ধুরন্দর এই প্রতারক। শিবশঙ্কর হালদার নামধারণ করে ভারতের নাগরিকত্ব নেন তিনি। দেশটিতে নামে-বেনামে অগাধ সম্পত্তির মালিক বনে যান তিনি। শুধু তাই নয়, আত্মীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠজন এবং সহযোগীদের নামেও বহু সম্পত্তি কেনেন পিকে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) জানিয়েছে, কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু অঞ্চলসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পিকে হালদার বহু সম্পত্তি কিনেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেই তার ২০-২২টি বাড়ির সন্ধান মিলেছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বহু সম্পদ করেছেন তিনি।

ভারতে পিকে হালদারের প্রধান সহযোগী সুকুমার মৃধারও বিপুল সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। বছর কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোকনগরে কয়েক কাঠা জায়গার ওপর বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরি করেন সুকুমার মৃধা। অবশ্য সেখানে সুকুমার মৃধা বার তার পরিবারের কেউ বসবাস করতেন না। এটি ছাড়াও তার আরও কয়েকটি অভিজাত বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পায় ইডি। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি উদ্ধার করা হয়।

শুধু অশোকনগরে বহু ধন-সম্পত্তি রয়েছে পিকে হালদার-সুকুমার মৃধা প্রতারক জুটির। সেগুলোর মধ্যে অশোকনগরেই তিনটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। তিনটি বাড়ির একটিতে বসবাস করে আসছিলেন সুকুমার মৃধার মেয়ের জামাই সঞ্জীব হালদার। তার দাবি, বছর দুয়েক আগে সুকুমার মৃধা এই বাড়িতে আসেন। এরপর আর আসেননি। বাংলাদেশের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা কিছুটা শুনলেও বিস্তারিত কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন সঞ্জীব হালদার।

এদিকে স্থানীয়রা জানা, সঞ্জীব হালদার নিজেও বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি সুকুমার মৃধার যে বাড়িতে বাস করছিলেন সেটি আসলে পিকে হালদারের ভাই প্রীতিশ হালদারের। স্থানীয়দের কাছে প্রীতিশ নিজেকে প্রাণেশ হালদার নামে পরিচয় দিতেন। বছর চারেক আগে প্রীতিশ হালদার তার বাড়িটি সুকুমার মৃধার নামে হস্তান্তর করেছিলেন।

ভারতীয় কোনো ব্যাংকে মাত্র পঞ্চাশ হাজার রুপির বেশি জমা করতে গেলেই বাধ্যতামূলকভাবে অর্থের উৎস জানাতে হয়। অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কেনার জন্য কীভাবে ব্যাংকে লেনদেন করা হলো তা নিয়ে ধূম্রজালের মধ্যে আছে খোদ ইডি। এই রহস্য উদঘাটন ছাড়াও ব্যাংকে পিকে হালদার নামে-বেনামে টাকা রেখেছেন কিনা, রেখে থাকলে সেই টাকার পরিমাণ কত- এসবও পিকে হালদারকে রিমান্ডে নিয়ে জানার চেষ্টা করছে ইডি।