ব্যাগ পেজ লিড পল্লবীর ওসির আতঙ্কে দখলবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা

267

স্টাফ রিপোর্টার : পল্লবীতে সদ্য যোগদানকারি ওসি পারভেজ ইসলাম দখলবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে মুক্তিমান প্রতীক। তাঁর দূরদর্শিতা, বিচক্ষনতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের এই দখলবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এখন তারা ঐসমস্ত কুকর্ম থেকে বাঁচার আপ্রান চেস্টা করছে। মিরপুর পল্লবী থানায় ওসি পারভেজ ইসলাম যোগদানের পরেই এই অসাধু লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদে নেমেছেন । পল্লবীর সাধারন মানুষ এখন স্বস্থি ও দোয়া করছেন এই ওসি সৎ ও নীতিবান পারভেজ আলমকে।
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে বেশ বিপাকে পড়েছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। নতুন ওসি হিসেবে পারভেজ ইসলাম গত বছর মে মাসে যোগদানের পরপরই তিনি পল্লবীর প্রধান দুটি সমস্যা মাদক এবং জমি দখলের দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। জানা যায় ওসি পারভেজ ইসলাম যোগদানের পরে চলতি বছর পযন্তর্ ওই থানায় মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়েছে ৬৮৯ টি যার মধ্যে ৯৭৫ জন গ্রেফতার হয়েছে। এ মাদক বিরোধী অভিযানে ১৫ কেজি ১৪৩ গ্রাম হেরোইন, ৬৯,৫৬৫ পিছ ইয়ারা ট্যাবলেট, ১২৮ কেজি ১৬৮ গ্রাম গাঁজা, ৪০৩ বোতল ফেন্সিডিল, ১৫৫ বোতল চোলাই মদ এবং ৬০ টি বিয়ার উদ্ধার করেছেন। অপ্রতিরোধ্য মাদক অধ্যুষিত মহল্লা মিল্লাত ক্যাম্পসহ বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে এক মাসে অভিযান চালিয়ে ১৫২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও ১০১ টি মামলা করা কারণে পুলিশ কমিশনার এর নিকট থেকে পুরুষ্কৃতও হয়েছে। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় মাদক ব্যবসায়ী এবং ভুমিদস্যুদের জন্য। বিপাকে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে পলায়ন করেন অনেকেই। অনেক মাদক ব্যবসীয়রা আবার পল্লবী থানার ওসি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার পুলিশ সদস্যদের পল্লবী থেকে হটাও শ্লোগানে মানববন্ধন করেন।

তাতেও কোন সুফল না মিললে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দপ্তরে ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বিধিবাম সেটাতেও মাদক ব্যবসায়ীরা কোন কুল কিনারা করতে না পেরে মাদক ব্যবসায়ীরা শেষে কোর্টে মামলা দায়ের করেন পল্লবীর ওসিসহ ১৭ জন পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিচক্ষন বিচারক মহোদয় পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের মামলা দেখে মামলাটি খারিজ করে দেন। ‘‘এ ওসি হামলোগকো ঠিকছে কুছ নাহি করনে দেগা’’ এভাবেই মিল্লাত ক্যাম্পসহ অনেক ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ীরা সন্ধার পরে চায়ের দোকানের সামনে নিত্যদিন আলোচন করছে। মাদকের বিষয়ে ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, আমি যতদিন এই থানায় আছি বা যে থানায়ই আমি যায় না কেন মাদক কারবারীদের কোন ছাড় হবে না। শুধু মাদকই নয় কোন অপরাধীর কোন ছাড় নাই আমার কাছে। কে কি বললো বা কে কি ভাবলো তা নিয়ে আমি ভাবি না, আমার কাছে আমার দ্বায়িত্ব কর্তব্যটাই বড়। তিনি আরো বলেন, আমাদের ডিসি স্যার এর নির্দেশনায় আমার থানা এলাকায় অপরাধের মাত্রা কমে এসেছে।

পল্লবী থানাধীন ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, পল্লবী থানা ৯২ সালে হবার পরে এই প্রথম একজন সৎ, দ্বায়িত্বশীল, ডাইনোমিক একজন ভালো অফিসার পল্লবী থানায় আসছেন, যিনি আসার পরে মাদক, কিশোর গ্যাং অটোরিক্সা, অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগসহ নানা অপরাধ যে গুলো ছিল সেগুলো বন্ধ হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবে যে ব্যবসা গুলো হতো মূলত এগুলো তো আর রাজনৈতিক ব্যক্তিরা করতো না এগুলো করতো মাসেল ম্যানরা। এখন আর আমাদের পল্লবীতে অটোরিক্সার টোকেন বাণিজ্য চলে না, কিশোর গ্যাং গ্রুপ গুলো নেই বললেই চলে আর বস্তি গুলোতে আর কেউ অবৈধ গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ধান্দাবাজির পসরা খুলে বসতে পারছেন না। আমি বলতে পারি তিনি এখনো পর্যন্ত যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে আমি মনে করি তিনি সফল এবং সফলতার জন্য সততার সাথে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি মনে করি তিনি পল্লবী বাসির কাছে এটি একটি দৃষ্টান্ত। তার কারনে পল্লবী থানার অন্যান্য এস আই’রা সৎ থাকতে বাধ্য।

পল্লবী এলাকার বাসিন্দারা পল্লবী থানা পুলিশের বর্তমান কর্মকান্ডে বেশ সন্তুষ্ট। পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী নেতা মোঃ খলিলুর রহমান বলেন আমাদের এলাকায় আগে সন্ধ্যার পরে মাদক ও কিশোর গ্যাং এর নিরাপদ আখড়া ছিল এখন তা নেই বললেই চলে। ওই এলাকার রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী আমির হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের বাউনিয়ারবাঁধে প্রায়ই জমি দখলের ঘটনা ঘটতো মারামারি হতো এখন আর তা হয় না। মিরপুর সিরামিকস এর কর্মচারী জাকির হোসেন বলেন আগে প্রায় রাতেই এই সিরামিকস রোডে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতো। রাত ১০টা বাজলেই শুরু হতো ছিনতাইকারীদের আনাগোনা, গত ৫/৬ মাস ধরে আর তেমন একটা দেখা যায় না তাদের।

অন্যদিক ক্ষোভে ফুলে ফেপে উঠেছে পল্লবী থানাধীন এলাকার ভূমি দস্যুরা। ওসি হিসেবে গত বছর পারভেজ ইসলাম যোগদানের পর থেকেই পল্লবীর একাধিক ভুমি দস্যুরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে চুপচাপ রয়েছেন। অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে ওসিকে ম্যানেজ করতে চেষ্টা করেও বিফল হয়েছেন। জানা যায় ভূমি দখলের প্রধান তিনটি স্পট পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ, পলাশ নগর এবং সাগুফতা এলাকায় নতুন করে কোন দখলবাজির ঘটনা ঘটেনি। মাঝেমধ্যে দু একটি দখলবাজরা অতি সাহস দেখিয়ে স্বদলবলে দখল করতে গেলেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন। দখলবাজির বিষয়ে ওসি পল্লবী বলেন, জমিজমা, ফ্ল্যাট, প্লট বা টাকা পয়সা জনিত বিষয়গুলি আমাদের এখতিয়ার বহির্ভুতএধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আমাদের কাছে আসলে আমরা তাদেরকে দেওয়ানী মামলা করে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পরামর্শ দেই এবং সেখানে যাতে কোনরুপ অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্ম না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকি।