বীরগঞ্জে কুড়ি শকুন অবমুক্তির অপেক্ষায় সিংড়া জাতীয় উদ্যান পরিচর্যা কেন্দ্রে

113

সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর থেকে : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বাংলাদেশে এক মাএ পরিচর্যা কেন্দে্র কুড়িটি শকুন অবমুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ।দিনাজপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসুস্থ ও আহত শকুন উদ্ধার করে শকুন রক্ষা এবং বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কেন্দে্র নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। সুস্থ্য হলে আবার তাদেরকে অবমুক্ত করা হয় মুক্ত আকাশে। শীত মৌসুমে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসব শকুন অনেক সময়ই অসুস্থ হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নামে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব শকুনের পরিণতি হতো মৃত্যু।

দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে বাংলাদেশে এক মাএ শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের পর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। প্রতি বছর প্রায় ২০/২৫ টি উদ্ধার করা শকুন পরিচর্যা করে অবমুক্ত করা হয়।সিংড়া ফরেস্ট বনবিভাগের কর্মকর্তা (রেঞ্জার) হরিপদ দেবনাথ জানান, শীত মৌসুমে অন্যদেশ থেকে আসা ক্লান্ত ও অশুস্থ শকুনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে তাদেরকে এই পরিচর্যা কেন্দে্র এনে রেখে সুস্থ করে তোলা হয়। পাখি গুলো এক নজর দেখতে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে ভিড় জমায় শত শত দর্শনার্থী।

বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা পরিচর্যা কেন্দে্র শকুনের দেখা শুনার দ্বায়িত্বে থাকা বাঁশেরহাট ভেটেনারী কলেজের চিকিৎক খাদিজা বেগম জানায়, পরিচর্যা কেন্দে্র থাকা ২০ টি শুকুন অনেক ভালো রয়েছে। শকুনই একমাত্র প্রাণী, যা রোগাক্রান্ত মৃত প্রাণী খেয়ে হজম করতে পারে এবং অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, খুরারোগের সংক্রমণ থেকে অবশিষ্ট জীবকুলকে রক্ষা করে। কিন্তু বড় বড় গাছ, খাদ্যের অভাব ছাড়াও বাংলাদেশে ডাইক্লোফেনাকের যথেষ্ট ব্যবহারের কারণে শকুন বিলুপ্তির মুখে।

শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দে্রর মুখ্য গবেষক সারওয়ার আলম দিপু জানায়, ২০১৪ সাল হতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ২০১৬ সাল হতে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সিংড়া জাতীয় উদ্যানে এই কেন্দ্রটি চালু করা হয়। গত ২০১৬ সাল হতে ২০২১ সাল পযন্ত উদ্ধার করে আনা ১৪৯ টি শকুন কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যায় রেখে সুস্থ হলে আবারো প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়। ২০২২ সালে ৩২ টি শকুন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেলেও ২০ টি শকুন এ পরিচর্যা কেন্দে্র রয়েছে। বাকি ১২ টি শকুন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেলেও তাদেরকে সাময়িক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । শকুন পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দে্র শকুন দেখাশুনা ও তদারকীর দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান জানায়, বেলাল হোসেন নামে এক ব্যাক্তি কে দিয়ে চিকিৎসাধীন ২০ শকুনের জন্য একদিন পর পর ১০ কেজি বয়লার মুরগি দেওয়া হয়। এছাড়াও স্যালাইন, পানি ও ওষুধ নিয়োমিত দেওয়া হয়।