বালিয়াছড়া ভাঙ্গন দিয়ে প্রবেশ করা ঢলের পানিতে ৪ গ্রাম প্লাবিত

91

রাজু দত্ত ,কমলগঞ্জ মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : গত ক‘দিনের টানা বর্ষণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত পাহাড়ী খরস্রোতা বালিয়া ছড়ার পুরনো ভাঙ্গন মেরামত না হওয়ায় ভাঙ্গন দিয়ে প্রবেশ করা ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় গত ৩ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ৪টি গ্রামের কয়েক হাজার লোক।

পানির নীচে তলিয়ে গেছে যোগযোগ রক্ষাকারী গ্রাম্যসড়ক ও কৃষকের বীজতলা। কৃষি নির্ভর এই ৪ গ্রামের লোকজন ইতিমধ্যে যে টুকু জমিতে আউশ ধান রোপন করেছিলেন তা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন তারা। ধারদেনা করে চাষাবাদে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা পুষিয়ে নিতে পারবেন কিনা সেই চিন্তায় কৃষকরা চিন্তিত।

পানিবন্দী বাড়ীগুলোর বাসিন্দারা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটালেও সরকারী কিংবা বেসরকারী পর্যায়ের কোন ত্রাণ তৎপরতা এই গ্রামগুলোতে চোখে পড়েনি। দূর্গত মানুষের খোজ খবরও এখন পর্যন্ত নেয়নি কেউ। এই গ্রামগুলোকে দূর্গত এলাকা ঘোষনাসহ অবিলম্বে বালিয়াছড়ার ভাঙ্গন মেরামতের দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শণে গেলে আলাপ হয় উত্তর বালিগাওঁ গ্রামের কৃষক রামানন্দ বাবুর সাথে। তিনি বলেন, ‘বালিয়া ছড়া এখন আমারার লাগি এক অভিষাপে পরিনত অইছে। প্রত্যেক বছর বালিয়াছড়ার দুই পারর গ্রাম অকলর মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হই। আগর বছর অকলর লাখান এবারও আমারর বাড়িঘর বন্যার পানি ডুকিয়া হকলতা নষ্ট করিলাইছে। লগেবগে আউস ধানর ক্ষেতটাও এবার শেষ । ধারদেনা করিয়া থুড়া জেগা ক্ষেত করছিলাম, মাইলে নেওরা বন্যায় হকলতা লইয়া গেছেগি। অখন যে আমি কিলা চলতাম,কুন্তা চিন্তা করিয়া পারাম না।’

কৃষক বিপুল কুমার সিংহ বলেন, ‘বান ভাঙ্গা থাকায় থুড়া মেঘ দিলেই পানি ঢুকি যায়, হকলতা ডুবাইলায়, কোন দিন যে আমার কপাল থাকি এই কষ্ট দূর অইবো জানিনা।’
এদিকে পানিবন্দী জামাল মিয়া বলেন, অখলবায় রিলিফ বাটা হয় কিন্তু আমরারে রিলিফতো পরর কথা কেউ দেখরাওনা আইয়া, আমরা অতউ কপালপুড়া।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সোলেমান হোসেন ভুট্টো জানিয়েছেন, তিনি মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর ২ বার বাধঁ মেরামত করিয়েছেন। ছড়ার গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় মোরামতকৃত বাধঁ ঠিকছে না। এখানকার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারী উদ্যোগে ছড়াটি খনন করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

৫নং কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি মেম্বার থাকা অবস্থায় ২বার এবং চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আরও ২ বার ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে বালিয়াছড়ার বাধঁ পুনঃনির্মান করিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

কারন ছড়ার ভাটিতে দীর্ঘ্য কয়েক বছর ধরে ছড়া খনন হয়নি যার কারনে প্রতিবছর ছড়ার বাঁধে ভাঙ্গঁন দেখা দেয় । ছড়াটি খননের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে একাধিকবার লিখিতভাবে দাবী জানিয়েছি, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায়ও বিষয়টি কয়েকবার উত্থাপন করেছি কিন্তু ছড়াটি খননের বিষটির অদ্যাবধি কোন সুরহা পাইনি। আমি আবারও প্রশানের কাছে জোর দাবী জানাচিছ বালিয়া ছড়া খননের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য।