বান্দরবানে ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী কলেজ ছাত্র আজাদ

126
বান্দরবানে ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী কলেজ ছাত্র আজাদ
বান্দরবানে ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী কলেজ ছাত্র আজাদ

বি.কে বিচিত্র,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধিঃ  নানা গুন সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল বানিজ্যিকভাবে চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন মো. আজাদ(২১) নামক বান্দরবানের এক কলেজ ছাত্র ।তার বাগানটি  বান্দরবান সদরের সীমান্তবর্তী,  রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের ছাইংগ্যা পাড়ায় পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত।

বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি গাছে শোভা পাচ্ছে হলুদ ও লাল রংয়ের ড্রাগন ফল।

রোগ-বালাই কম হওয়ার পাশাপাশি চাষ পদ্ধতি সহজ হওয়ায় এবং বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় বিদেশি এ ফল চাষে এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আশপাশের চাষিরা।

মোঃ আজাদ নিজেই বাগান দেখভাল  করেন,পড়াশোনার পাশাপাশি, , দেড় বছর আগে শিক্ষার্থী আজাদ, ১০  শতক জমিতে দুশত  ড্রাগন চারা রোপণ করেন।

সেগুলোর সঠিকভাবে পরিচর্যার পর এবারে প্রতিটা গাছেই ফল ধরেছে। আর ড্রাগনের ক্ষেত দেখতে আশপাশের মানুষও এখন ভিড় করছেন।

অনেকেই জানতে চাইছেন, কিভাবে অল্প সময়ে ফলন আনতে সক্ষম হয়েছি আমরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সাঈদী, জানান, ড্রাগন ক্ষেতটি খুব সুন্দর ও পরিপাটি। প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছে। এছাড়া ড্রাগন ফলের দামও বাজারে বেশ ভালো পাওয়া যায়। এজন্য তিনিও ভাবছেন কিভাবে এটার আবাদ শুরু করবেন।

বাগান মালিক, আজাদ জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি কিভাবে উদ্যোক্তা হওয়া যায়,, পতিত জমিকে কিভাবে কাজে লাগানো যায়,এ চিন্তা ভাবনা থেকে  শখের বসে তিনি ড্রাগন চারা সংগ্রহ করেন। এরপর স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও জেলা হর্টিকালচারের সার্বিক সহযোগিতায়  ১০ শতক জমিতে বেড তৈরি করে ড্রাগন চারা রোপণ করেন। বেড তৈরি থেকে শুরু করে চারা রোপন ও গাছের পরিচর্যায় এ পর্যন্ত তার প্রায় ৫ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। তার বাগানে লাল, হলুদ ও সাদা তিন প্রকারে ড্রাগন চারা রোপন করেছেন। বর্তমানে প্রতিটা গাছে ড্রাগন ফল ধরেছে। পর্যায়ক্রমে ফলন আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করছেন তিনি।

সৌখিন এ চাষি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমার বাগানের ড্রাগন ফল বাজারজাত করা শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাজারে মৌসুমে ফল ভরপুর থাকায় প্রতি কেজি ড্রাগন পাইকারি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ  বলেন, বিদেশি ফল হলেও বর্তমানে আমাদের দেশে ড্রাগনের চাষ শুরু হয়েছে। পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ ড্রাগনে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত, ফিবার, ফ্যাট, ক্যারোটিণ, ফসফরাস, এসকরবিক এসিড, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ রয়েছে। একটি ড্রাগন ফলে ৬০ ক্যালোরি পর্যন্ত শক্তি এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, বিটাক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে। ডায়াবেটিস ও ক্যানসার প্রতিরোধে ড্রাগন ফল খুবই কার্যকরী।

 আরও বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে আরো মাঠ পর্যায়ে কৃষক ও খামারীদের বিদেশি ফল চাষের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে পারলে একদিকে যেমন বিদেশি ফলের আমদানী নির্ভরতা কমে আসবে অন্যদিকে ফল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। এছাড়া নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।