বগুড়ার গাবতলীতে আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ৩০

68
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বগুড়া প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার, ২৯ মে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির অন্তত ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ। ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানার মোড়ে মোড়ে দাঙ্গা পুলিশ ও ডিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে ২৭ মে গাবতলী উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে বগুড়া জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক সুরাইয়া জেরিন রনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার, ২৯ মে দুপুর ১২টায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মিছিলটি থানার মোড় পেরিয়ে থানার পূর্বপার্শ্বে উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি মোরশেদ মিল্টনের বাড়ির সামনের রাস্তায় পৌঁছালে বিএনপি ও অঙ্গদলের নেতাকর্মীরা মিছিলের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয়পক্ষের মধ্যে দুই ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে।

এসময় পুলিশের গুলি ও ইট-পাটকেলের আঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন গাবতলী সদর ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা শ্রমিক লীগের সদস্য সচিব মানিক সরকার, উপজেলা মহিলা আ.লীগের নেত্রী সালমা বেগম, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মামুনুর রশিদ রয়েল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুজন, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সদস্য সচিব লেমন পাইকার, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির ইসলাম পিপুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু হানযালা সরকার ছঈম, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সিহাব, ছাত্রলীগ নেতা বাবলা, আ.লীগ নেতা হান্নান, আতিক, মতিন, সিরাজুল প্রমুখ।

এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আহত থানা ছাত্রদলের সভাপতি পলাশ, সহ-সভাপতি আল আমিন, কাউন্সিলর হারুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাকিবুল ইসলাম হিরু, যুবদল নেতা জালাল, সেলিম, শিপন, মালেক মোক্তাদির, ছাত্রদল নেতা লুকু, আল আমিন, আশিক, রক্সি, সোহাগ প্রমুখ।

এই ঘটনার রেশ ধরে উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা বিএনপির পার্টি অফিস ও থানা মার্কেটের একটি দোকানঘর এবং পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ফরিদ উদ্দিনের ছেলে মজনুর বসতবাড়ির টিনের বেড়ায় ভাংচুর চালায়। ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া চলাকালে গাবতলীতে যানবাহন ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসমাল জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।