ফেনীতে বাঁধে ভাঙন, ১০ গ্রাম প্লাবিত

93

পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধের চার স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময় নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। ভাঙন মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিপুল পরিমাণ জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে বানভাসিদের জন্য শুকনা খাবারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বিভাগ থেকে জরুরি সেবার জন্য একটি মোবাইল নম্বর চালু করে প্রয়োজনীয় ফোর্স প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার ভোরের দিকে ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া এলাকার রতন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ও সকাল ৭টার দিকে সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর এলাকার সেকান্তর মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বেলা ১১টার দিকে একই ইউনিয়নের দেড়পাড়ায় আরেকটি বাঁধ পানিতে ভেসে যায়। ফলে দেড়পাড়া, নিলক্ষী, উত্তর নিলখী, গাবতলা, মনতলা, গোসাইপুর, নোয়াপুর, উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর ও বৈরাগপুর ও দরবারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বরইয়া এলাকা প্লাবিত হয়। পরশুরাম উপজেলার পশ্চিম অলকা গ্রামের একটি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।

ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ফুলগাজী বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম নদী ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করে বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং পানির চাপ না কমলে দেড়পাড়া, উত্তর নিলক্ষী, দক্ষিণ নিলক্ষী ও গোসাইপুর এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘ফুলগাজী সদর এবং দরবারপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর ও উত্তর বরইয়া এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে জনপদে পানি প্রবেশ করছে। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে জেলা পুলিশ আপনাদের পাশেই আছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটা হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ফুলগাজী থানা ডিউটি অফিসারের নম্বরে যোগাযোগ করুন। মোবাইল ০১৩২০১১৩০৮৫।’

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুন্নাহার বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষদের জন্য আপাতত ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিকেলে তা বিতরণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আকতার হোসেন জানান, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীরক্ষা বাঁধের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১২২ কিলোমিটার এলাকায় পানির চাপ এখনো বাড়ছে। সকালে পানির প্রবাহ ১০৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়। দুপুরে তা বেড়ে বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।