ফুলবাড়ী পৌরশহরে যে কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পথচারীরা

53

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরশহরের সড়কগুলোতে অরক্ষিত অবস্থায় লোহার টিন, এ্যাঙ্গেল, প্লানসিট, বার আনা-নেয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন পথচারীরা। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতারা লৌহজাত পণ্য (ঢেউটিন, এ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, স্টিলের সিট, স্টিলের পাতি, লোহার দরজা-জানালা) পৌরশহরের দোকানগুলো থেকে ক্রয় এবং ওয়ার্কশপ থেকে এতটাই অরক্ষিত অবস্থায় পরিবহন করা হচ্ছে যে, প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এসব দ্রব্যাদি পরিবহনে নেই কোন নিয়মনীতি, নেই প্রশাসনের নজরদারি। ফলে রাতের আঁধারে কিংবা ভরা দুপুরে দেখা যায় এসব লৌহজাত ধারালো পণ্য দেদারছে অরক্ষিতভাবেই পরিবহন করা হচ্ছে।

পঙ্গুত্ব বরণকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আকবর আলী (৬৬) বলেন, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাড়ীর অদূরেই মাদিলাহাট থেকে সন্ধ্যায় বাড়ী ফিরছিলেন। বিপরীত দিক থেকে রিকশাভ্যানে করে ঢেউটিন কিনে বাড়ী ফিরছিলেন এক ব্যক্তি। সেই ভ্যানের নতুন টিন দিয়ে তার পায়ে আঘাত লাগে। টিনের আঘাতে পা ক্ষত হয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। তারপর স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সিএমএইচএ চিকিৎসা শেষে ডান পা কেটে ফেলতে হয়েছে। অরক্ষিত ভ্যানে টিনের আঘাতে পঙ্গুত্ব জীবনের গ্লানি বইতে হচ্ছে।

দেখা যায়, ফুলবাড়ীহাট, মাদিলাহাট, আটপুকুরহাট, বারাইহাট, পুখুরিহাট, খয়েরবাড়ীহাট, মেলাবাড়ীহাট, আমবাড়ীহাট, লক্ষ্মীপুরহাট, আমডুঙ্গিহাটসহ পাশের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, পার্বতীপুরের ৫০-৬০ টি হাট থেকে প্রতিদিন ঢেউটিন, এ্যাঙ্গেল, লোহার বার, রড, স্টিলের সিট, স্টিলের পাতি, লোহার দরজা -জানালা ক্রয়- বিক্রয় এবং ওয়ার্কশপে তৈরি শেষে অরক্ষিতভাবেই সড়ক দিয়ে ভ্যানে কিংবা শ্যালো ইঞ্জিন চালিত পরিবহনে আনা নেওয়া করা হয়। ফলে এমনভাবে প্রসারিত রাস্তায় ঘটছে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা ঘটিয়েই সটকে পড়ে ওইসব যানবাহনের চালকরা।

ভুক্তভোগী সহকারী অধ্যাপক মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, মোটরসাইকেলে বাজারের ভিতর যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে ভ্যানে করে জানালার লোহার গ্রিল নিয়ে আসছিল এক ব্যক্তি। প্রচন্ড জ্যামে জানালার গ্রিলের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন!

ফুলবাড়ী বাজারের টিন-অ্যাঙ্গেল বিক্রেতা মেহের এন্টারপ্রাইজের শাহিন ট্রেডার্সের শাহিনুর রহমান বলেন, ক্রেতাদের টিন-অ্যাঙ্গেলে পরিবহনের সময় বস্তা বা লাল কাপড় দিয়ে যাতায়াতের কথা বলার পরও কেউ শোনেন, আবার কেউ শোনেন না। একটু অসাবধানতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে।

থানা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমএ কাইয়ুম বলেন, যেহেটু লৌহজাত পণ্য পরিবহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূণ। সাবধানতার সঙ্গে দিনের বেলায় এবং রক্ষিতভাবেই এগুলো পরিবহন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা জারি করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, এসব লোহার অরক্ষিত মালামাল পরিবহনে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের চিকিৎসায় দিনের বড় একটা সময় দিতে হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, লৌহজাত পণ্য বিক্রির সময় বিক্রেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হবে; যাতে করে তারা ক্রেতাদের এসব পণ্য সুরক্ষিত করে বস্তা বা লাল কাপড় দিয়ে দিনের বেলায় পরিবহন করেন।