ফুলবাড়ীতে প্রায় ৫০০০ অটোরিকশা, দিনে খরচ ২৯ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

79

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রায় পাঁচ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা ও রিকশাভ্যান দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নেই এসব যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন আর চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স; তারপরও বেপরোয়া দ্রুতগতিতে চলছে অলিগলি থেকে সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে। নিয়ন্ত্রণের নেই কোনো ব্যবস্থা, নেই কোনো শৃঙ্খলা।

ফুলবাড়ী পৌরসভার কর আদায়কারী পরিতোষ কুমার পরি বলেন, পৌরসভা এলাকায় সব মিলিয়ে পাঁচ হাজার ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, রিকশা ও রিকশাভ্যান চলাচল করে। এসব যানবাহন দুই থেকে ১০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। রিকশা ও রিকশা ভ্যানের রেজিষ্ট্রেশন পৌরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া হলেও ইজিবাইক কিংবা অটো চার্জারের রেজিষ্ট্রেশন আগে দেওয়া হতো না। কিন্তু এবছর এইসব যানেরও রেজিষ্ট্রেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পৌরসভা। পৌর এলাকায় প্রায় দেড় হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল করলেও পৌরসভা থেকে নিবন্ধিত হয়েছে ৮০০ টির। একইভাবে ব্যাটারি চালত রিকশা ভ্যানের সংখ্য প্রায় দুই হাজার হলেও নিবন্ধিত হয়েছে ৩০০টি এবং ইজিবাইক ও অটো চার্জার এক হাজারেরও বেশি চলাচল করলেও নিবন্ধিত হয়েছে ১২টি।

ফুলবাড়ী শাখা বাংলাদেশ অটো রিকশা শ্রমিক লীগের দপ্তর সম্পাদক শেরাজুল ইসলাম বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলায় অন্তত এক হাজার অটোরিকশা বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়কে চলাচল করছে। এছাড়াও উপজেলার পৌর এলাকাসহ সাত ইউনিয়নে অন্তত চার হাজারেরও বেশি ব্যাটারি চালিক রিকশাভ্যান চলাচল করছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারিতে প্রত্যেকদিন বৈদ্যুতের চার্জ দিতে হয়।

নেসকো ফুলবাড়ী বিদ্যুৎ সরবরাহের সহকারী প্রকৌশলী মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, ব্যাটারিচালিত বড় অটোরিকশার (ইজিবাইক) ৫টি ব্যাটারি অটো চার্জারে প্রতিদিন লাগে ৯-১০ ইউনিট বিদ্যুৎ, রিকশা, রিকশাভ্যানে লাগে ৪ থেকে ৫ ইউনিট বিদ্যুৎ। এ হিসাবে প্রায় ৫ পাঁচ হাজার বাহনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৯ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হচ্ছে। এতে করে নিত্যদিন বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে এসব বানবাহনের কারণে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ চাইলে বিদ্যুৎ অপচয়কারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।