ফুলবাড়ীতে দিনাজপুরের চায়না থ্রি ও মাদ্রাজী লিচু

59

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : সময়ের আগেই লিচুর রাজ্য দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার হাটবাজারের দেখা মিলেছে লাল টসটসে রসালো বাহারী জাতের লিচুর। স্বাদের পূর্ণতা না আসলেও সৌন্দর্য্য ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের নিমতলা মোড়, স্বজনপুকুর রেলঘুটটি, টিটিই মোড়, ফুলবাড়ী বাস্টস্ট্যাণ্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় লিচুর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন লিচুর খুচরা বিক্রেতারা।

তবে আগাম লিচু দেখে ভিড় জমছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ক্রেতাদের। চায়না থ্রি ও মাদ্রাজী জাতের লিচু বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রতি ১০০ লিচু প্রকার ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। ফুলবাড়ী নিমতলা মোড় এলাকা থেকে ৩০০ টাকায় ৭৫ টি লিচু কিনেছেন খয়েরবাড়ী মনমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধীমান চন্দ্র সাহা। তিনি জানান, বর্তমানের লিচুতে স্বাদের পূর্ণতা পাওয়া না গেলেও আগাম পাওয়া যাচ্ছে বলেই বাড়ীর জন্য এই লিচু কেনা।

উপজেলার কোয়ারপুর এলাকার একটি লিচু বাগান মালিক সুদেব চন্দ্র সাহা বলেন, এ বছর প্রাকৃতিক তেমন কোন দুর্যোগ না থাকায় লিচুর ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। এমুহুর্তে যে লিচু বাজারে উঠেছে সেগুলো রাসায়নিক প্রয়োগে পাকানো এবং লিচুর রং করা। তবে স্বাভাবিক নিয়মে বাগানের কিছু কিছু গাছের লিচু লাল হয়েছে। সেগুলো বাজারে উঠাতে আর সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বাজারে পুরোপুরি লিচু উঠে যাবে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘোড়াঘাট উপজেলায় প্রায় ৬৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে।

ছোট—বড় মিলিয়ে লিচুর বাগান রয়েছে প্রায় ২০০ মতো। এসব বাগান থেকে বছরে লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ৪৭৫ মেট্রিক টন। অপরদিকে পুরো উপজেলায় লিচু চাষে জড়িত আছেন প্রায় ৭০০ জন চাষি। তারমধ্যে ২৫০ জন চাষি বাগান আকােও এবং বাকি ৪৫০ জন নিজ বাড়ীতে লিচুর চাষ করেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, আর সপ্তাহখানের মধ্যে প্রায় সব জাতের লিচু হাটবাজারে উঠে যাবে। মাটি ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন জাতের লিচু ইতোমধ্যে পূর্ণ পরিপক্ব হয়ে গেছে।