পূর্বধলায় যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত

পূর্বধলায় যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত
পূর্বধলায় যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর আহত

মোঃ শফিকুল ইসলাম খান,পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলায় যৌতুকের দাবিতে রুবিনা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বাবা কফিল উদ্দিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গৃহবধূর স্বামী শহীদ (২৭) দেবর সাদিকুল ইসলাম (১৮) উভয় পিতা কালা মিয়া, শ্বশুর কালা মিয়া (৬০) মজিবুর রহমান (৫০), তরিকুল ইসলাম (২২) পিতা মজিবুর রহমানসহ ৫জনকে আসামি করা হয়েছে। সকলেই নোয়শি বাড়িয়ল এর বাসিন্দা। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের নোয়াশি বাড়িয়ল গ্রামে এ মারপিটের এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের পূর্ব সুমনিয়া পাড়া গ্রামের কফিল উদ্দিন এর মেয়ে রুবিনা আক্তারের সঙ্গে পূর্বধলা উপজেলার শহীদ মিয়ার ৫ বছর আগে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে ৪বছরের ১টি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুক দাবি করে আসছিল স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে এর পূর্বে ৫০,০০০ হাজার টাকা যৌতুক প্রদান করে রুবিনার বাবা।

সম্প্রতি পূনরায় স্বামী শহীদ একলক্ষ (১,০০,০০০) টাকা যৌতুক দাবি করলে যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রুবিনার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। গত শনিবার (৬ আগষ্ট) অভিযুক্তরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মেরুদন্ড, উভয় হাত, উভয় পা এবং গোপনাঙ্গসহ হাড়ভাঙা ও নীলাফুলা জখম করে। বেধরক মারপিট করে বাড়ির একটি ঘরে আটকে রাখে এবং বস্তা বন্দী করে বাড়ির পাশে বিলে পুঁতে রাখার পরিকল্পনা করে।

গুরুতর আহত গৃহবধূ রুবিনা টের পেয়ে লুকিয়ে পাশের রাস্তায় অটোরিকশার চালকের কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে জীবন বাঁচানোর জন্য মিনতি করলে অটোরিকশা চালক জখমী রুবিনাকে উদ্ধার করে পূর্বধলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।