পীরগঞ্জে আগাম বৃষ্টিতে সরিষা ও আলুর ব্যাপক ক্ষতি

75

আসাদুজ্জামান,পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও ঝড় বাতাসে সরিষা ও আলূ চাষিরা পড়েছেন বিপাকে । গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এ উপজেলাই। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে আলু, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গম, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। মাঘের শীতে এমন বৃষ্টি ও ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরেছে শনিবাার সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্গে দমকা হাওয়ায় বেড়েছে ঠান্ডা। টানা বৃষ্টিতে নিচু ফসলি জমিতে পানি জমেছে, তলিয়ে গেছে আলুসহ শীতের বিভিন্ন সবজি। উৎপাদন নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ো বাতাসের তোড়ে আগাম আবাদের গম, সরিষা, ভুট্টাগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আলুক্ষেতে জমে গেছে বৃষ্টির পানি। শীতের তীব্রতায় ফসলি মাঠে শনিবাার পযন্তর্ কাজ করতে দেখা যায়নি কোনো শ্রমিককে। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, চতলি মৌসুমে ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ১০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে গম, ৪ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে পীরগঞ্জে ।

পৌর শহরের রঘুনাথপুর মহল্লার কৃষক আসাদুজ্জামান জানান,তিনি এবার বার বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে সরিষা জমিতে নুয়ে পড়েছে। আর সরিষা গাছের গোড়া পানিতে তলিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আশা করে এবার সরিষা আবাদে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। পরিনতি এমন হবে ভাবিনি । এখানে জমিতে কাজ করার লোকও পাওয়া যায় না। এ জন্য আবাদে খরচও বেশি হয়। তার ওপর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় মাথায় হাত। একই মহল্লার আরেক কৃষক আবু বক্কর জানান, এবার তিন বিঘা জমিতে আগাম গমের আবাদ করেছেন তিনি। কিন্তু টানা দুইদিন বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে তার গমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গমগাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে এবং পানি জমে থাকায় গমের গাছ লাল হয়ে পড়েছে। মিত্রবাটি এলাকার দোমাসু জানান, ‘দুই বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছি। শুক্রবার সকাল থেকে ঝড়ো হাওয়ায় আলুগাছ শুয়ে গেছে। মাঘের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত একই এলাকার কৃষক হিরোল বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে সরিষা করেছি। আজকের এই আবহাওয়ায় সব শেষ হয়ে গেল। ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করা বাঁশগাড়া গ্রামের খাদেমুল মিয়া বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং ঝড়ে গমের বেশ ক্ষতি হয়েছে। গম তুলে ঋণের টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। উপজেলার ৭নং হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক ছামাদ মিয়া বলেন, ‘৯ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। এভাবে বৃষ্টির পানি লেগে থাকলে আলু পচে যাবে এবং ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

দিনমজুর অতুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরিষা ক্ষেতে কাজে এসেছিলাম। দেখি সরিষা ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে গেছে। তাই কাজ বন্ধ। বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।কৃষকরা বলছেন, কয়েক বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এতে আলুসহ সরিষার উৎপাদনের পরিমাণ ও মান দুটোই কমবে। উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম বলেন, চলতি মৌসুমে ৩৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ৪২০ হেক্টর জমির গম এবং ২০ হেক্টর জমির আলু ক্ষতির আশংকা রয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আলু ও সরিষার জন্য ক্ষতিকর। এসব ফসল সংগ্রহে অন্তত ১৫ দিন দেরি হবে। এতে বোরো আবাদও পিছিয়ে পড়বে। তবে বোরো আবাদের জন্য বৃষ্টি ভালো। এতে ভূর্গভস্থ পানি সাশ্রয়ী হবে। ধানগাছ দ্রুত বাড়বে। ‘কৃষকদের আলুক্ষেতে পানি না শুকানো পর্যন্ত আলু তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। বন্ধ রাখতে হবে সার—কীটনাশক প্রয়োগ। এখন সবচেয়ে জরুরি বৃষ্টির পানি ক্ষেত থেকে বের করার ব্যবস্থা করা। তিনি আরো বলেন বিভিন্ন ব্লকের দায়ীত্বে থাকা উপ—সহকারী কষি কর্মকর্তারা র্কষকদের করনীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন ।