পাবনা-৩ এলাকার গরীব দুস্থদের পাশে অবঃ মেজর জেনারেল ড. ফসিউর রহমান

168

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার, সেনা গৌরব ও সেনা পারদর্শিতা পদক প্রাপ্ত পাবনা-৩ এলাকার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবঃ মেজর জেনারেল ড.ফসিউর রহমান পাবনা-৩ (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর)এলাকার গরীব দুস্থ অসহায় মানুষের পাশে দাড়াচ্ছেন।

মেডিক্যাল সার্ভিসের ডাইরেক্টর জেনারেল (ডিজি) পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর থেকে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা তার পৈত্রিক নিবাস চাটমোহর ও মাতুলালয় ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাশাপাশি ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সাথে মত বিনিময় করছেন এবং সাধ্য মতো গরীব ও দুস্থ ব্যক্তিদের পাশে দাড়াচ্ছেন।

সর্বশেষ ২৮ জানুয়ারী সন্ধ্যায় তিনি এবং তার স্ত্রী সেলিনা বানু চাটমোহরের হান্ডিয়াল এলাকার মানুষের সাথে মত বিনিময় করেন এবং গরীব দুঃখীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।

এ ছাড়াও অতি সম্প্রতি তিনি দিনে এবং রাতের আঁধারে চাটমোহরের চিনাভাতকুর, সেনগ্রাম, ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাহানগর, ঝবঝবিয়া, ফরিদপুরের হাদলগ্রামসহ পাবনা-৩ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন। শীত বস্ত্র প্রাপ্তদের অনেকে জানান, দেশের ছেলে চাকরী শেষে দেশে ফিরে আসায় আমরা আনন্দিত। তার দেয়া শীত বস্ত্র আমাদের উপকারে আসবে।

অবঃ মেজর জেনারেল ফসিউর রহমানের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেছে, পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত দেলমাহমুদ ও জসিমন নেসার দ্বিতীয় সন্তান তিনি।

এমবিবিএস ডিগ্রী অর্জনের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগদান করেন। এছাড়াও মাইক্রোবায়োলজীতে পিএইচডি, মাস্টার অব পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ), ফেলো অব দ্য কলেজ অব জেনারেল প্যাকটিশনার (এফসিজিপি), মাস্টার অব সিকিউরিটি স্টাডিজ (এমএসএস), মাস্টার অব বিজিনেস এ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ), ব্যাচেলর অব “ল” (এলএলবি) ডিগ্রী অর্জন ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) সম্পন্ন করেছেন তিনি।

কর্ম জীবনে নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস এর সহ-সভাপতি, নবম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস এর মেডিক্যাল কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। মেডিক্যাল সার্ভিসের ডাইরেক্টর জেনারেল থাকা কালীন সময়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক দেয়া চাটমোহরের আলোচিত যুক্ত মাথার জমজ সন্তান রোকেয়া-রাবেয়ার সেপারেশন অপারেশনের দায়িত্ব ও পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস এর ডাইরেক্টর জেনারেল, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের কমান্ড্যান্ট (অধ্যক্ষ), ঢাকা সিএমএইচ এর কমান্ড্যান্ট, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বসহ আরো অনেক দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। “স্বাধীনতা যুদ্ধে আর্মি মেডিকেল কোর” নামক একটি পুস্তক সম্পাদনা করেছেন। এ ছাড়া আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, সিএমএচ ঢাকা, আর্মি ডেন্টাল কোরের প্রকাশিত জার্নালসহ দেশ বিদেশের পত্র পত্রিকায় তার লেখা প্রায় ৫০ টি বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বিএমএ’র জীবন সদস্য। এছাড়া আইসিএম এম, এসসিসিএম, আইসিএমএমএস এর এর সদস্য ও তিনি। বি.ইউপি’র সাবেক সিনেট সদস্যের দায়িত্ব ও পালন করেন তিনি। ২০১২ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত “হু” এর হেলথ প্রোগ্রাম, ২০১৭ সালে ব্যাংককে আইসিএমএমএস এর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন।

ফ্রান্সের মার্সিলেস এ শান্তি সহায়ক কার্যক্রমের প্রস্তুতি মূলক কোর্স  সম্পন্ন করেন। কর্মক্ষেত্রে ভাল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার পুরষ্কার, একই বছরে সেনা গৌরব পদক পান। ২০১৯ সালে সেনা পারদর্শিতা পদক পান তিনি। এছাড়া জাতি সংঘের শান্তি মিশনে অংশ গ্রহন করে সফলতার স্বাক্ষর রাখায় লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন ও মোজাম্বিকে শান্তি রক্ষা পদক পান তিনি।

তিনি অনেক রোগির চিকিৎসা, হাসপাতালে ভর্তি, অনেক মানুষের ছেলে মেয়ের পড়া লেখার ব্যয় ভার বহন করেছেন। বিবাহ, চাকুরী ইত্যাদি ক্ষেত্রে ও অনেককে সহায়তা করেছেন। চাটমোহরের মির্জাপুর ডিগ্রী কলেজ ও এম.এ আউয়াল টেকনিক্যাল ও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, এতিম খানায় সহায়তা করেছেন। রিলিফ কার্যক্রম ও মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে অনেক দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করেছেন।  

গত শুক্রবার (২৮ জানুয়ারী) তিনি বলেন, “চাকুরী জীবনে আল্লাহর সহায়তায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য কাজ করেছি। এখন অবসরে আছি। হাতে অনেক সময় পাচ্ছি। তাই আগামি দিন গুলোতে মানুষের জন্য আরো বেশি কাজ করতে চাই। মানুষের উপকারে আসতে পারাটাইতো মানব জীবনের স্বার্থকতা।”