পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা র ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা র ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়ন  মান্দারকান্দি চৌরাস্তার এমডিপি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের উপর  দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ মানববন্ধ ও বিক্ষোভে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের সামনের ঢাকা-কটিয়াদী সড়কে টায়ার পুড়িয়ে রাস্তা অবরোধ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাকুন্দিয়া থানার পুলিশটিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান শিক্ষকের উপর হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

জানা যায়,  গত সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর পোনে ১১টায় কথিত প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থীর নামে  অফিস সহকারি নাজিম উদ্দিন ৮ম শ্রেণির প্রশংসা পত্রে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষর গ্রহণের সময় প্রধান শিক্ষক উক্ত শিক্ষারথীদের রেকর্ড  দেখতে চাইলে অফিস সহকারি রেকর্ড দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়  থেকে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে প্রশংসাপত্র নিতে আসা কথিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মান্দারকান্দি গ্রামের রেনু মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তারও প্রধান শিক্ষককে মারধরে উদ্যত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এসময় নাজিম উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

ওইদিনই নাজিম উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাররে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে অভিযোগ দেন।

পরদিন মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর)  দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ের পাশের চৌরাস্তা বাজারের রায়হানের ডেকোরেটরের দোকানে বসে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য তোতা পাঠানের সাথে উক্ত বিষয়ে আলোচনা করছিলেন।

এসময় আগের দিনের ঘটনার জের ধরে  একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানের শাটার নামিয়ে

প্রধান শিক্ষককে এলোপাথাড়ি মারপিটে আহত করে। এতে প্রধান শিক্ষক জখম প্রাপ্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অফিস সহকারী নাজিম উদ্দিন ও তার ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের আক্রিমণের শিকার হয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। 

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফখর উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার সম্পরকে আমি অবগত হয়েছি। ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি। আগামীকাল সকালে এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভা আহবান করেছি। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে অফিস সহকারি নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রাক্তন দুই শিক্ষার্থীর প্রসংশাপত্রে  প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নিতে চাইলে তারা শিক্ষার্থী ছিলেন কিনা তা জানতে চান। এবং আমাকে উপযুক্ত প্রমানের জন্য হাজিরা খাতা দিতে বলেন। এ মুহূর্তে আমি তা আনতে পারব না বললে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে আমাকে মারধর শুরু করেন।  

মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক মো. হোসেন আলী বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় সঠিক দায়িত্ব পালনের কারনে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা সভ্য সমাজে গ্রহন করা যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে দোষীদের শাস্তি দাবী করছি। 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা করে।