পলাশবাড়ীতে পরকীয়ার জেরে ছোট ভাই হত্যা মামলায় বড় ভাইয়ের দায়ে মৃত্যুদন্ড

148

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামে স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে সহোদর ছোট ভাই শাওনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা মামলায় বড় ভাই তানজির আহমেদকে (৩৫) মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহ¯পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার সময় গাইবান্ধা সিনিয়র দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামী তানজির আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত তানজির আহমেদ পলাশবাড়ী উপজেলার ভগবানপুর গ্রামের সাবু মিয়ার ছেলে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, শাওন আহমেদের স্ত্রীর সঙ্গে তার সহোদর বড় ভাই তানজির আহমেদের পরকীয়া ছিল। ঘটনা বুঝতে পেরে তানজির ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি রাতে শাওনকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের পাশে ইট চাপা দিয়ে ডুবিয়ে রাখে। এ ঘটনায় পরদিন সাগরের অপর বড় ভাই বেনজির আহমেদ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করে পলাশবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা (নং—৬) দায়ের করেন। ঘটনারদিন পুলিশ কোমরপুর এলাকায় একটি বায়োগ্যাস প্লান্টের পাশে ইট চাপা দিয়ে ডুবিয়ে রাখা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে।
থানা পুলিশ ঘটনার পর গত ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি কৌশলে নিহতের পরিবারের সকল সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। এসময় নিহতের স্ত্রী রোজিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে স্বীকার করেন তার স্বামীর বড় ভাই তানজির তাকে প্রেম নিবেদনের কথা বলে!
ওইদিনই সহকারী পুলিশ সুপার (বি—সার্কেল) মইনুল হোসেনের নেতৃত্বে পলাশবাড়ী থানার পুলিশ পুরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মতিউর রহমান ও এসআই সঞ্জয় কুমার সাহাসহ সঙ্গীয় ফোর্স তানজিরের বসতবাড়ীর শয়ন ঘরে অভিযান চালিয়ে তানজিরকে আটক করে। পরবর্তীতে তানজির আহমেদ ছোট ভাই শাওনকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
এব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স বলেন, এ মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ তানজির আহমেদের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছেন। এটি একটি ন্যাক্কারজনক হত্যার ঘটনা। মৃত্যুদন্ড হওয়ায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি জানান।