পর্দা না করার ক্ষতি ও অপকারিতা

96

পর্দা না করার ক্ষতি ও বিপদ সবচেয়ে মারাত্মক। পর্দাহীনতা সরাসরি আল্লাহ ও তার রাসুলের সুস্পষ্ট নাফারমানির শামিল। কেননা পর্দা মহান আল্লাহ ও তার রাসুলের নির্দেশ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দা না করার মারাত্মক ক্ষতি ও অপকারিতা কথা একাধিক হাদিসে তুলে ধরেছেন। পর্দা না করার এই ক্ষতি ও বিপদগুলো কী?

১. পর্দা লঙ্ঘনের ক্ষতি

পর্দা ফরজ ইবাদত। পর্দা না করাই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিধান অমান্য করার শামিল। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশের বিরোধিতা করবে সে তো নিজেরই ক্ষতি করবে। হাদিসে পাকে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের সবাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে সে লোক নয় যে (জান্নাতে যেতে) অস্বীকার করে। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন, যে আমার (সুন্নাতের) আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; আর যে আমার নাফারমানী করবে (যেমন- পর্দার ফরজ বিধান লঙ্ঘণ করবে) সেই জান্নাতে যেতে অস্বীকার করবে।’ (বুখারি)

২. পর্দাহীনতা অভিশাপ

বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পর্দাহীনতা অভিশাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এমন সব পোশাক বেরিয়েছে; যা উলঙ্গপনার নামান্তর। হাদিসের পরিভাষায় তা অভিশাপ হিসেবে স্বীকৃত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘শেষ যুগে অচিরেই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু নারী হবে, যারা কাপড় পরেও উলঙ্গ থাকবে। তাদের মাথা হবে উটের চুড়ার ন্যায়। তোমরা তাদেরকে অভিশাপ কর। কেননা তারা অভিশপ্ত।’

৩. পর্দাহীনরাই জাহান্নামি

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জাহান্নামীদের দুটি দল রয়েছে। যাদের আমি এখনও দেখিনি। একদল এমন লোক রয়েছে; যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে যা দিয়ে তারা লোকদের আঘাত করবে। আর অন্য একটি দল হবে এমন নারী; যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে।’ (মুসলিম)

৪. পর্দাহীনতা শয়তানের কাজ

পর্দাহীনতা হচ্ছে শয়তানের মূল লক্ষ্য। হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালামের ঐতিহাসিক সে ঘটনাই শয়তানের মূল লক্ষ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শয়তানের কুপ্ররোচনায় তাদের লজ্জা স্থান প্রকাশ ও পর্দা উন্মোচন হয়েছিল। আল্লাহ বলেন-

‘হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে; যেমন সে তোমাদের (আদি) বাবা-মাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে; এমতাবস্থায় যে- তাদের থেকে তাদের পোশাক খুলিয়ে দিয়েছে। যাতে করে তাদের লজ্জাসস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৭)

৫. বেপর্দা ইয়াহুদি নীতির বহিঃপ্রকাশ

মুসলিম জাতির নৈতিকতা ধ্বংসের জন্য ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত্র গোপন কোনো বিষয় নয়। এর প্রধান অনুসঙ্গ উলঙ্গপনা তথা নারীর ফেতনা। কেননা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা জাতির নৈতিকতা ধ্বংসের প্রধান অস্ত্র। এ কারণেই নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘তোমরা দুনিয়া এবং নারী থেকে বেঁচে থাক। কেননা বনী ইসরাইলের (ইয়াহুদিদের) মধ্যে সর্বপ্রথম ফেতনা ঘটেছিল নারী দ্বারা।’ (মুসলিম)

৬. পর্দাহীনতা অজ্ঞতার রীতি

পর্দাহীনতাকে ঘৃণিত জাহেলি রীতির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পর্দাহীনতা অন্ধকার যুগের বর্বরদের রীতি হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন-

‘তোমরা ঘরের ভেতরে অবস্থান করবে; জাহেলি (অজ্ঞতার) যুগের অনুরূপ (পর্দাহীন হয়ে) নিজেদের প্রদর্শন করবে না।’ (সুরা আহজাব : আয়ত ৩৩)

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বিষয়টি সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। তিনি জাহেলি যুগের সবধরনের রীতি-নীতিকে পদদলিত করেছেন। হাদিসে এসেছে- ‘জাহেলি যুগের সব বিষয় আমার দু পায়ের নীচে।’ (বুখারি)

৭. চরিত্র ধ্বংসের মাধ্যম পর্দাহীনতা

পর্দাহীনতা চারিত্রিক পদস্খলনের অন্যতম মাধ্যম। কেননা বেপর্দার মাধ্যমে নারী-পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ বেড়ে যায়। উভয়ে চরিত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে যুব সমাজের জন্য পর্দাহীনতা মারাত্মক ধ্বংসের কারণ। কেননা বেপর্দা তাদের অন্তরে কুচিন্তার উদ্রেক করে; ফলে তারা ধাবিত হয় অশ্লীলতার দিকে। হাদিসে এসেছে-

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো জাতির মধ্যে যখনই অশ্লীলতার প্রকাশ ঘটবে, তখনই তাদের মধ্যে মহামারী, দুর্ভিক্ষ… প্রভৃতি ব্যাপক আকার ধারণ করবে; যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ)

৮. চোখের ব্যভিচার ঘটে বেপর্দায়

পর্দাহীনতা মানুষের চারিত্রিক ক্ষতি ও অবক্ষয় হয় সবচেয়ে বেশি। চোখের জিনায় জড়িয়ে পড়ে নারী-পুরুষ। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘চোখের ব্যভিচার হচ্ছে দৃষ্টিপাত করা।’

নিঃসন্দেহে দৃষ্টি অবনত রাখার আনুগত্যকে লঙ্ঘন করার কারণেই পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদের সূত্রপাত হয়েছে। মানুষের চরিত্রকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আল্লাহ বলেন-

‘যখন আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি; তখন তার অবস্থা সম্পন্ন লোকদেরকে উদ্বুদ্ধ করি, এরপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। ফলে তাদের উপর দণ্ড অবধারিত হয়ে পড়ে এবং তখন আমি তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে থাকি।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১৬)

মনে রাখতে হবে

যারা শরীরের বিশেষ অঙ্গকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে; তাদের মতে তা করার কারণ হলো- এ অঙ্গগুলো গোপন। পক্ষান্তরে ইসলামে নারী হচ্ছে গোপন বিষয়। অন্য পুরুষ থেকে নিজেকে গোপন করে ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করাই ইসলামের দাবি। এ জন্য মাহরাম পুরুষ ছাড়া বাহিরে চলাফেরায় নারীরা নিজেদের কাপড়ে আবৃত করে পর্দা পালন করে থাকেন। হিজাব কিংবা বোরকা পরেন। এতে নারী-পুরুষ উভয়ে অসংখ্য ক্ষতি ও অপকারিতা থেকে মুক্তি পায়। আর যারা বেপর্দায় চলাফেরা করে তাদের জন্যই রয়েছে উল্লেখিত সব অপকারিতা ও ক্ষতি।

সুতরাং সব মানুষের উচিত, চারিত্র ও নৈতিক অবক্ষয়সহ যাবতীয় ক্ষতি থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পর্দার বিধান মেনে চলা। ইসলামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী পর্দা মেনে অশ্লীলতামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা। নিজে নিরাপদ থাকা এবং অন্যকে নিরাপদ রাখা।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে পর্দা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। নারীদের বাহিরে বের হতে নিজেদের ঢেকে বের হওয়ার তাওফিক দান করুন। অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা থেকে নিজেদের হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। নারী-পুরুষ সবাইকে পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করার তাওফিক দান করুন। পর্দাহীনতার ক্ষতি থেকে সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।