পদ্মা সেতু : ভাড়া কমিয়েও যাত্রী মিলছে না লঞ্চে

107

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানীতে যাতায়াতের অন্যতম বাহন ছিল নৌযান। সড়কপথে ফেরি পারাপারে ভোগান্তির কারণে বেশিরভাগ যাত্রী লঞ্চে যাতায়াত করতেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় বেড়েছে লঞ্চ ভাড়াও। ভাড়া কমানোর দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন পালন করেছে কর্মসূচি। এরপরও ভাড়া কমেনি।

তবে পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। সড়কপথে যাত্রীর চাপ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে লঞ্চের যাত্রী। বেশ কয়েকটি লঞ্চ ভাড়া কমিয়েও কাঙিক্ষত যাত্রী পাচ্ছে না। তাই যাত্রী ধরে রাখতে শিগগির বৈঠকে বসছেন লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা।

বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর গত কয়েক দিনে ক্রমান্বয়ে কমছে লঞ্চের যাত্রী। সোমবার (২৭ জুন) রাতে বরিশাল নদীবন্দর থেকে সুরভী-৯, সুন্দরবন-১০, পারাবত ১৮ ও মানামী লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কোনোটিতে ৫০ শতাংশ, কোনোটিতে ৩০ শতাংশ যাত্রী কম ছিল।

শুধু ডেকের যাত্রী কম তা নয়, ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোর প্রায় অর্ধেক কেবিন খালি গেছে। এভাবে যাত্রী কমলে মালিকদের লোকসান গুনতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বরিশাল নদীবন্দরে পাঁচটি লঞ্চ নোঙর করা ছিল। রাত সাড়ে ৮টার পর সেগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রী কেমন হয়েছে জানতে চাইলে রাত সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজাররা জানান, যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বরিশাল থেকে সোমবার রাতে সুন্দরবন-১০ লঞ্চ ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছে। এরপর বিক্রিত টিকিট হিসাব করে দেখা যায় যাত্রী ছিল ৩৪৭ জন। এছাড়া এক-তৃতীয়াংশ কেবিন খালি ছিল। সব মিলিয়ে বলা যায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেক যাত্রী ছিল।’