পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে যা বললেন শেখ হাসিনা

114
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে যা বললেন শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে যা বললেন শেখ হাসিনা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বললেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্বোধন করব পদ্মা সেতু। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, দেশবাসীর সাথে সাথে আমার ছোট বোন শেখ রেহানা, আমার দুই ছেলে-মেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাতে চাই আমি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যার কারণে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি- আমাদের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করি, স্মরণ করি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যারা আমাদের বিজয় এনে দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, আমার মা ফজিলাতুন্নেসা, আমার তিন ভাই, একমাত্র চাচাসহ সেদিন আমার পরিবারের যেসব সদস্য নিহত হয়েছিলেন তাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। এর সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা। প্রফেসর জামিলুর রহমানসহ পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের শ্রদ্ধাভরে সম্রণ করছি।

পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অপবাদ প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতির অপবাদ দিয়ে আমার বোন শেখ রেহানা, আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, রেহানার ছেলে রেদোয়ান, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ অনেকের ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাদের প্রতি সহমমির্তা প্রকাশ করছি।

পদ্মা সেতু নির্মাণে জড়িত সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই পদ্মা পাড়ের দুই পারের মানুষকে। তারা জমি দিয়েছে। নিজেদের জায়গা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। তাদের পুনর্বাসন করেছি। তাদের সহযোগিতা না পেলে সেতু নির্মাণ কঠিন হতো।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক বাধা উপেক্ষা করে, ষড়যন্ত্রের জাল ছিঁড়ে আমরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। এই সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এই সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। এই সেতু বাংলাদেশের জনগণের। এটা আমাদের প্রত্যয়। ষড়যন্ত্রের কারণে সেতু নির্মাণ করতে দুই বছর বিলম্ব হলেও আজ পদ্মার বুকে জ্বলে উঠেছে আলোর ঝলকানি। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘কেউ দাবায়ে রাখতে পারাবা না’। আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পরেনি।

সরকাপ্রধান বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছিলেন- সাবাস বাংলাদেশ, জ্বলে পুড়ে মরে ছাড়খার, তবু মাথা নোয়াবার নয়। আমরা মাথা নোয়াইনি। কখনো নোয়াবো না। বঙ্গবন্ধু আমাদের কখনো মাথা নোয়াতে শেখাননি। তার নেতৃত্বে স্বাথীনতা অর্জিত হয়েছে। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাদেশ আমাদের দেশ। এদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। যতই অপবাদ দেওয়া হোক আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবোই। জাতির পিতা আত্মমর্যাদা নিয়ে আমাদের বাঁচতে শিখিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জনগণের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। অনেকেই এর বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের চিন্তা ও আত্মদৈনতা রয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জন্ম নিক- এটাই আমার চাওয়া। মাটি আর মানুষই হলো বাংলাদেশের সম্পদ। তা দিয়েই দেশকে গড়ে তুলব আমরা। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট জানাই।

অ্যামাজনের পরেই বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মা। এর গতিস্রোত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া খুব কঠিন। তারপরও আমরা সেতু নির্মাণ করতে পেরেছি। সেতুর নির্মাণ কাজে গুণগত মানে কোনো আপোস করা হয়নি। নদী শাসনের মাধ্যমে দুই পাড়কে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এটা (পদ্মা সেতু) একটা আশ্চর্য সৃষ্টি।