পদ্মায় বিলীন হয়ে গেল হরিরামপুরের আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

173

জ. ই. আকাশ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) থেকে : প্রবল স্রোতের তোড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের একমাত্র বিদ্যাপীঠ আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। ২১ জুন (মঙ্গলবার) দুপুর ১টার দিকে নবনির্মিত চারতলা ভবন পদ্মায় ধসে গেছে বলে জানা যায়।

পদ্মা যমুনা অববাহিকায় অব্যহত পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার চরাঞ্চল আজিমনগর ইউনিয়নের পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় তীব্র  ভাঙন দেখা দেয়। এতে সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ে বিদ্যালয়টি।

জানা যায়, গত ১৯ জুন (রবিবার) মানিকগঞ্জ জেলা সহকারি শিক্ষা প্রকৌশলী মো. হাকিমুল হাসান সিদ্দিকী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডিই মো. আবুল কালাম আজাদ ও হরিরামপুর উপজেলা শিক্ষা সহকারি প্রকৌলী মো. সবুজ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন । পরিদর্শন শেষে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে একটি প্রতিবেদন দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন জানান, “গত ১৯ জুন জেলা সমন্বয় সভায় বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করা হলে আমরা ওই দিন বিকেলেই ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করি। এই মূহুর্তে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলেও বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব নয়, এমনটি উল্লেখ করে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। শুধু তাই নয়, গত বছর বর্ষা মৌসুমেও বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে আমরা তখনও জানিয়েছিলাম, বিদ্যালয়ের চলমান নবনির্মিত ভবনের কাজটি যেন করা না হয়।”

উল্লেখ্য, দুর্গম চরাঞ্চল আজিমনগর ইউনিয়নের হাতিঘাটায় ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়। ওই সময় বিদ্যালয়টি এডিবি’র অর্থায়নে টিনসেটের ১৫টি রুম তৈরির মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হয়। গত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে চারতলা ফাউন্ডেশনে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ১ কোটি ২৩ লাখ  ৫০ হাজার বরাদ্দে পুনরায় শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ওই একতলার ওপরেই আরও তিনতলা ভবনের অনুমোদন দেয়া হলে বিদ্যালয়টির চার তলা পর্যন্ত ভবনের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়। এর পরেই দেখা দেয় ভয়াবহ ভাঙন। এতে করে বিদ্যালয়ের বাকি কাজ বন্ধ রাখা হয় এবং বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে অন্যান্য আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়া হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন চৌধুরী বিপ্লব জানান, “বিদ্যালয়ের নবনির্মিত চারতলা ভবনটি আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৫০ জন ছাত্র- ছাত্রী রয়েছে।”
বিদ্যালয় ভবনটি নিলামের প্রক্রিধীন ছিল বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা সহকারি শিক্ষা প্রকৌশলী মো. হাকিমুল হাসান সিদ্দিকী মুঠোফোনে জানান, “গত বছর বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনের ওপরই বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। এছাড়াও গত ১৯ জুন পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি নিলামের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু তার আগেই ভবনটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।”