‘নয় মাস পর কবর থেকে উঠে আসা’ বৃদ্ধাকে আশ্রয়দাতার কাছে হস্তান্তর (ভিডিও)

201

গাইবান্ধা পৌর এলাকায় নয় মাস পর কবর থেকে উঠে এসেছেন বাছিরন বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা- অবিশ্বাস্য এমন খবরে হইচই পড়ে যায় পুরো দেশেই। পরে জানা যায়, ওই বৃদ্ধা আসলে মৃত বাছিরন বেওয়ার মতো দেখতে আরেকজন বৃদ্ধা। মূলত এ কারণেই এমন খবর চাউর হয়। অবশেষে ওই বৃদ্ধার পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম শেফালী সরদার। তিনি খুলনার দৌলতপুরে সুফিয়া বেগম নামের সদ্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী এক আশ্রয়দাতার বাড়িতে থাকেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আশ্রয়দাতার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পুলিশকে বৃদ্ধা জানান, তার নাম পদ্ম রানি। বাবার নাম বাচা চন্দ্র। বাড়ি খুলনার আশাশনি থানায়। ট্রেনে ভিক্ষা করতে করতে তিনি খুলনা থেকে গাইবান্ধায় আসার পর ট্রেন থেকে নেমে পড়েন।

চাঞ্চল্যকর সৃষ্টিকারী ওই বৃদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তার আসল নাম শেফালী সরদার। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে তার আশ্রয়দাতার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা শেফালী খুলনার দৌলতপুর থেকে পথ ভুল করে গাইবান্ধায় চলে এসেছিলেন।

বৃদ্ধা শেফালীর আশ্রয়দাতা সুফিয়া বেগম জানান, শেফালীর তিন কূলে কেউ নেই। গৃহহীন ও প্রতিবন্ধী শেফলীর নামে প্রতিবন্ধী কার্ডও আছে যা তিনি পুলিশকে দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই বৃদ্ধা শেফালী তার বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন।

বৃদ্ধা ও তার আশ্রয়দাতার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে বৃদ্ধাকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার সকালে গাইবান্ধা থানায় পৌঁছে নিজেকে বৃদ্ধার আশ্রয়দাতা হিসেবে নিজের পরিচয় দেন সুফিয়া। প্রমাণ হিসেবে তিনি বৃদ্ধার নামে বরাদ্দ হওয়া প্রতিবন্ধী কার্ডও দেখান পুলিশকে। তারপরও সুফিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা যে গ্রামের বাসিন্দা সেখানকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাইবান্ধা থানা পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃদ্ধা শেফালীকে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পৌর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বাছিরন বেওয়া। নয় মাস আগে তার মৃত্যু হয়। স্টেশন জামে মসজিদে জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। কিন্তু সম্প্রতি খবর ছড়ায়, মৃত বাছিরন বেওয়া নাকি কবর থেকে উঠে এসেছেন। তিনি এখন ছেলের বাড়িতেই আছেন। ব্যস, চাঞ্চল্যকর এমন খবরে পুরো এলাকায় হইচই পড়ে যায়। বহু মানুষ দলে দলে আসতে থাকেন বাছিরন বেওয়াকে দেখার জন্য।

বুধবার, ১১ মে এমন অদ্ভুত ঘটনাই ঘটে গাইবান্ধা পৌর এলাকার ডেভিট কোম্পানি পাড়ায় আব্দুর রশিদ গেদার বাড়িতে। এদিন খবর রটে, মারা যাওয়ার নয় মাস পর বাছিরন বেওয়াকে তার ছেলের বাড়িতে জীবিত অবস্থায় দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, নয় মাস আগে মৃত্যুবরণ করেন মৃত বাহার শেখের স্ত্রী ও আব্দুর রশিদ গেদার মা বাছিরন বেওয়া। স্টেশন জামে মসজিদে তার জানাজা শেষে পৌর কবরস্থানে কবর দেওয়া হয়।
কিন্তু বুধবার সকালে আব্দুর রশিদ গেদার বাড়িতে তার মা বাছিরন বেওয়ার মতোই দেখতে এক বৃদ্ধার খোঁজ মেলে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে হইচই পড়ে যায় এলাকাজুড়ে। বহু মানুষ ভিড় জমান আব্দুর রশিদ গেদার বাড়িতে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বৃদ্ধাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

আব্দুর রশিদ গেদা বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্টেশন এলাকায় একজন বৃদ্ধাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখি। তার চেহারা আমার মায়ের মতোই। কিছুক্ষণ কথা হয় তার সঙ্গে। এরপর তিনি শুয়ে পড়লে একটি কয়েল জ্বালিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে আসি। কিন্তু পরদিন বুধবার সকালে কে বা কারা তাকে আমার বাসায় রেখে যায়।

অবশ্য ঘটনাটি গুজব ছাড়া আর কিছুই না বলে জানিয়েছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. ওয়াহেদুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই খবরের কোনো সত্যতা নেই। এটা একটা গুজব। কবর থেকে উঠে আসার কথা বলা হচ্ছে যে বৃদ্ধাকে নিয়ে তিনি আসলে মৃত বাছিরন বেওয়ারের মতো দেখতে আরেকজন বৃদ্ধা। খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধা ও বাড়ির মালিক আব্দুর রশিদকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওসি আরও জানান, ওই বৃদ্ধার নাম পদ্ম রানি। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারের লোকজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।