নাব্যতা সংকটে মৃত প্রায় পিরোজপুরের প্রধান নদী কঁচা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

92

এম এ মুন্না, পিরোজপুর প্রতিনিধি: নাব্যতা সংকটে দিন দিন মৃত প্রায় পিরোজপুরের প্রধান নদী কচাঁ। রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক সময়ে খননের অভাবে প্রতিদিনই নাব্যতা সংকটে পড়ছে জেলার প্রধান বৃহৎ এ নদী। যার ফলে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ টি রুটের যানবাহনে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। সেই সাথে ব্যাহত হচ্ছে জেলার সাথে উপজেলার সকল যোগাযোগ। টগড়া—চরখালী রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ও যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে দ্রুতই নদীর ডুবোচর অপসারন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দবি স্থানীয়দের। তবে কঁচা নদীর নাব্যতা সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃর্পক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পিরোজপুর সড়ক বিভাগ। নদীর ে¯্রাত কমে যাওয়ায় ও যথাযথ ড্রেজিং এর অভাবে এ নদীর টগরা পয়েন্টে আরো প্রায় এক দশক আগে থেকে চর পরা শুরু করে। বর্তমানে ফেরীঘাট পয়েন্টের ৪ কিলো মিটার উজানে ব্যাকুটিয়া ফেরী নির্মিত হওয়ায় চরের অবস্থা আরো প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা নদীর প্রায় অর্ধেকটা জুড়েই। প্রায় ২ কিলোমিটার চওড়া এ নদীটি পাড় হতে বছরের অন্যান্য সময় ২০—২৫ মিনিট সময় লাগলেও, শীত মৌসুমে এ চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। এ সময় নদীতে পানি কমে যাওয়ায় প্রায়ই ফেরি আটকা পড়ে ডুবো চড়ে। আর এতে ঘন্টার পর ঘন্টা ফেরি আটকে থাকে নদীর মাঝেই। ফলে বিপাকে পড়ে এ নদীর টগড়া—চরখালী ফেরি রুট দিয়ে চলাচল করা ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ টি রুটে যানবাহন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যহত হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকান্ড ও জরুরী চিকিৎসা ব্যবস্থার। প্রতিদিন টগড়া—চরখালী ফেরি ঘাট থেকে প্রায় সহ¯্রাধীক যানবাহন ও ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ পারাপার হয়। অন্যদিকে যতক্ষণ নদীতে জোয়ার না আসে, ততক্ষণ এ অপেক্ষা চলতে থাকে। এর ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা নদীতে আটকে থাকতে হয় গাড়ী ও যাত্রী বোঝাই ফেরি। ফেরী কর্মচারী মো: মজিবুর রহমান খান জানান, নদীর চরের কারনে পানি কমলেই ফেরী চলাচল বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। গাড়ী ফেরীতে উঠানো যায়না। আর লোড ট্রাকের তো প্রশ্নই আসে না। তীর থেকে নদীর ২ অংশই চর। ফেরীর আরেক কর্মচারী মো: জাহাঙ্গীর জানান, নদীর ৩ ভাগের ২ ভাগেই চর পড়ে গেছে। ভাটির সময় তো ফেরী চালাতে পারি না, বন্ধ করে রাখা লাগে। জোয়াড় যখন আসে তখন আবার ফেরী চলে। আবার মাঝে মাঝে যাত্রী ও গাড়ী নিয়ে মাঝ নদীতে ভেসে থাকতে হয়। একদিন ডিসি স্যারকে নিয়ে দেড় ঘন্টা ভাসছি। জোয়াড় হওয়ার পরে তাকে পাড় করছি। যাত্রী মো: আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার জানান, সকালে পানি কম থাকে বিধায় ফেরী চলতে পারে না, চরে আটকে যায়। এভাবে প্রতিনিয়তই আমাদের পারাপারে ভোগান্তির শেষ থাকে না। ট্রলারও থাকে না, যেটুকু থাকে তাতে ট্রলারও ঠিক মতো পাওয়া যায় না। আর কুয়াশা তো আছেই। গত বছর দেখছিলাম নদী কাটছিল। তা তো আবার সেই ভাবেই ভরে গেছে। এখন ফেরী চলতেই পারে না। একটু পাণি কমলেই ফেরী চরে বাজে। বিআইডব্লিউটিএ যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এটার সমাধান হবে। ইজারাদার আজমীর হোসেন মাঝি জানান, ঢাকা সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ টি রুটে যানবাহন টগড়া—চরখালী ফেরি রুট দিয়ে চলাচল করে। এখান থেকে অনেক গাড়ী ও যাত্রী পারাপার করে। নদীর ডুবোচরের কারনে ফেরী ভাটার সময় বন্ধ রাখতে হয়। জোয়ার না হলে ফেরী নিয়ে বসে থাকতে হয়। ইজারাদার হিসেবে আমরাও লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়—ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। আমরা পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও বিআইডব্লিটিএ এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছি। অতিসত্বর যদি নদী খননের এই কাজ না নেয়া হয় তবে জোয়ারের সময়ও ফেরী চালানো সম্ভব হবে না। আর একটু জোড়ালো পদক্ষেপ নিলে আমরা আমরা এই সমস্যা গুলো থেকে মুক্ত হবো। পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন জানান, চরখালীতে আমাদের যে ফেরীটি চলছে সেটি মূলত নাব্যতা সংকটের কারনে বিভিন্ন জায়গায় আটকে যাচ্ছে। এই নাব্যতা সংকট নিরশনের প্রধান কাজ মূলত করে বিআইডব্লিটিএ। ফেরী আটকে গিয়ে বিরম্বনার স্বীকার হওয়ার বিষয়টি বিআইডব্লিটিএ এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ও চিঠি দিয়েছেন। নদী ড্রেজিং এর বিষয়টি নৌ—পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে সম্প্রতি পাশ হয়েছে। তারা জানিয়েছে দ্রুত নদী ড্রেজিং এর কাজ শুরু করবে। জেলা প্রশাসক আবু আলী মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান, পিরোজপুর জেলার চরখালী ফেরীরর মাধ্যমে মঠবাড়িয়া—ভান্ডারিয়া—বরগুনাসহ ১৪টি রুটে অনেক মানুষ চলাচল করে থাকে। প্রতিবছরেই শীত মৌসুমে ভাটার সময় চরের কারনে ফেরী আটকে যায়। যার কারনে এবারেও আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করেছি।