নওগাঁয় পঞ্চ হোটেলের খাবার খেয়ে নারীসহ দুই জন অসুস্থ

66
নওগাঁয় পঞ্চ হোটেলের খাবার খেয়ে নারী সহ দুই জন অসুস্থ
নওগাঁয় পঞ্চ হোটেলের খাবার খেয়ে নারী সহ দুই জন অসুস্থ

নওগাঁ প্রতিনিধি:নওগাঁয় পঞ্চ হোটেলের খাবার খেয়ে এক নারী সহ দুইজন অসুস্থ্যের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ঐ দুইজন নওগাঁ সদর সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরে শনিবার বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ বিষয়ে হোটেল মালিকের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি ভূল স্বীকার করে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। আর পুলিশ প্রশাসন বলছেন অভিযোগের ভিত্তিতে আইন মোতাবেক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পৌর এলাকার আরজি নওগাঁ লাটাপাড়া মহল্লার মৃত আবু তালেব সরদার এর ছেলে রানা সরদার(৩৫) ও তার বোন চায়না বেগম (৩৭) গত শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকায় শহরের রুবির মোড়ে অবস্থিত পঞ্চ হোটেলের খাবার খান। এরপর থেকে শারিরিক ভাবে চরম অসুস্থ্যতা অনুভব করতে থাকে এবং এর এক পর্যায়ে বমি ও পাতলা পায়খান শুরু হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে। চিকিৎসা শেষে হোটেলে গিয়ে খাবারের সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করলে হোটেল মালিক মারুফ হোসেন তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও প্রান নাশের হুমকি প্রদান করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী রানা সরদার বলেন, আমি হোটেলে গিয়ে মাছের ঝোলের তরকারি দিয়ে খাবার শুরু করে প্রথমে খানিকটা খাবার খেয়ে ফেলি। তারপর বুঝতে পারি তারকারি টক লাগছে এবং গন্ধ করছে। বিষয়টি তাদের জানালে সঙ্গে সঙ্গে তা সরিয়ে ফেলে খাসির মাংসের তারকারি দেয়। খাবার শেষে বোন ও প্রসূতি স্ত্রীর জন্য দুই প্যাকেট খাবার পার্সেল করে নিয়ে আসি। এই খাবার খাওয়ার পর হতেই আমি ও আমার বোন অসুস্থ্য হয়ে পরি। বিষয়টি তাদের জানালে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি প্রদান করেন। আমি এর ন্যায বিচার দাবী করছি।

চায়না বেগম বলেন, পার্সেল করা খাবারের মাছের ভর্তাতে চুল ছিল। ভাগ্য ভাল সেটা দেখে আমার প্রসূতি ভাবি খাবার খায়নি। সে যদি খাবার খেত তাহলে একটি বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারত। খাবার খাওয়ার পর বেশ কয়েকবার আমি বমি করেছি। তাৎক্ষনিক হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি বলেই এখনও সুস্থ্য আছি। আমরা এর বিচার চাই।

পঞ্চ হোটেলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মারুফ হোসেন বলেন, আমি সে সময় হোটেলে ছিলাম না। খাবারে কি সমস্যা ছিল তাও বলতে পারব না । তবে বলার সঙ্গে সঙ্গে তার খাবার পরির্বতন করে দেওয়া হয়েছিল এবং ৩০পিছ মাছ সহ তরকারিটি তাৎক্ষনিক ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর মাত্র ৭০ টাকার মাছের জন্য আপনারা এসব আজেবাজে প্রশ্ন ও বাড়াবাড়ি কেন করছেন।

নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ নজরুল ইসলান জুয়েল বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।