ধামইরহাটে অসময়ের বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে ৫০ একর জমির ফসল

89

মো. রিফাতুল হাসান চৌধুরী সৈকত,ধামইরহাট থেকেঃ নওগাঁর ধামইরহাটে পানি নিষ্কাশনের অভাবে অসময়ে বৃষ্টিপাতে প্রায় ৫০একর জমির রোপণকৃত ইরি-বোরো ধান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে করে ওই এলাকার কৃষকরা ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার হরিতকীডাঙ্গা এলাকার মহব্বতপুর মৌজায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০একর জমি বৃষ্টিপাতে তলিয়ে রয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় ফসলি জমিগুলো বর্ষা মৌসুমে সারাবছর তলিয়ে থাকে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে ওই মাঠের প্রায় জমিগুলো চাষাবাদ করতে হিমসিম খেয়ে থাকেন কৃষকরা। তারপরেও অনেক কষ্ট নিয়ে ওই জমিগুলোতে কৃষকরা ফসল ফলান। কিন্তু চলতি মৌসুমে হঠাৎ বৃষ্ঠিপাতে রোপণকৃত ইরি-বোরো ধানগুলো কয়েকদিন থেকে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে করে কৃষকের হাজার হাজার টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে।

ওই এলাকার কৃষক মো. আকবর হোসেন জানান, মহব্বতপুর মৌজায় আমাদের পরিবারের প্রায় ৩০বিঘা জমি রয়েছে। প্রায় ১০বছর থেকে বর্ষা মৌসুমে আমাদের জমিগুলো পানি নিষ্কাশনের অভাবে সঠিক ভাবে চাষাবাদ করতে পারিনা।

বর্গা চাষি মো. বাচ্চু জানান, আমি চলতি মৌসুমে ৩বিঘা জমি ওই মৌজায় বর্গা নিয়ে ইরি বোরো ধান রোপণ করেছি। এতে আমার প্রায় ২০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্ঠিপাতে জমিতে পানি জমে থাকায় আমার সকল জমির রোপণকৃত ধান গাছের চারাগুলো বিনষ্ট হয়ে হলদে রঙ ধারণ করেছে। যদি জমি থেকে পানি নিষ্কাশন না করা যায় তাহলে আমাকে আবারো নতুন করে ধান রোপণ করতে হবে।

কৃষক বাচ্চু, রতন, বাবুলসহ আরো কয়েকজন জানান, পানি নিষ্কাশনের অভাবে আমাদের সকলের জমির ধানগাছগুলো বর্তমানে কয়েকদিন থেকে তলিয়ে রয়েছে। বেশির ভাগ জমির রোপণকৃত ধানগুলো নষ্ট হয়েছে। তারা আরো জানান, চলতি ওই জমিগুলোর পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রায় ১০বছর আগে আধা-পাকা একটি ১হাজার ফিট ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নয়াপুকুর নামক স্থানে কিছু স্থাপনা নির্মাণের পর থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে পরে। আমরা ওই ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেও কোন প্রতিকার মিলেনি। আমরা কৃষকরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গণপতি রায় জানান, বিষয়টি অবশ্যই ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।