দেবিদ্বারে দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ

দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ

76
দেবিদ্বারে দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ
দেবিদ্বারে দৃষ্টিনন্দন সাত গম্বুজ মসজিদ

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার, দেবিদ্বার থেকে ফিরে এসে : কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পৌর এলাকার গুনাইঘর গ্রামে ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয়ে গুনাইঘর বায়তুল আজগর সাত গম্বুজ জামে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ বেসরকারী টেলিভিশন গুলো মসজিদটি নিয়ে অনেক প্রামান্য চিত্র প্রচার করে আসছে। মসজিদটি দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ছুটে আসেন।

দেবিদ্বার সদর থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মসজিদটিকে কেন্দ্র করে ক্রমে আধুনিক শহরের অবয়বে গড়ে উঠেছে। ক্যালিগ্রাফি এবং ফুল লতা পাতায় আরবী অক্ষরে শোভিত করে দেবিদ্বারে একটি অত্যাধুনিক মসজিদ নির্মাণ করতে অগণিত শ্রমিক কাজ করেছে।

মসজিদটি নির্মান করেন এ আসনের চার চারবার নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য দানবীর আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারে আমলে ২০০৫ সালের ১৪ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এ ঐতিহাসিক মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

বাগান দিয়ে ঘেরা এই মসজিদ আজ বাংলাদেশের অনন্য এক স্থাপত্য নিদর্শন। মসজিদটির ভেতরে, বাইরে ও মিনার গম্বুজ পাত্রে রয়েছে-সিরামিকসে করা শতাধিক ক্যালিওগ্রাফি।

ঐতিহ্যবাহী লিপিশৈলী শেকান্তে, সুসল দিওয়ানী ছাড়াও রয়েছে আটটি বাংলা ক্যালিওগ্রাফি। বিভিন্ন স্থানে একই মাধ্যমে স্বাভাবিক আরবীলিপিতে লেখা আছে সূরা আর-রাহমান, আয়াতুল কুরসী এবং চার কূল।

দৃষ্টি নন্দন চারটি সুউচ্চ মিনার শোভা পাচ্ছে, যার প্রতিটির উচ্চতা ৮০ ফুট। সাতটি গম্বুজের পাঁচটিই ঝারবাতি সমৃদ্ধ। ছয়টি এসি রয়েছে পুরো মসজিদে। একসাথে প্রায় ৩০০ মানুষ এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারেন। এক কথায় মসজিদটি ঐতিহ্যের সাথে চমৎকার আধুনিকতার সমন্বয়।

২০০২ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে উদ্বোধন পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে মসজিদটি নির্মাণে ৩৫ জন শ্রমিক দায়িত্বের সাথে কাজ করেছেন। মসজিদটির প্রতিষ্ঠা, অর্থায়ন ও সার্বিক পরিকল্পনায় ছিলেন কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের চার বার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। মসজিদটির স্থপতি শাহিন মালিক। ক্যালিওগ্রাফি, কারুকাজ ও নকশার শিল্পী বশির মেসবাহ।

বর্তমানে মসজিদটির পেছনে ফুলে ফলে ভরা একটি বিশাল বাগান ও সাবেক ওই সাংসদের বিশাল একটি বাড়ি রয়েছে যা পর্যটকের মন কেড়ে নেয়। মসজিদটি দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমান।