দিনাজপুরে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

83

সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর থেকে: যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। চারিদিকে যেন হলুদের সমারোহ।বিস্তত মাঠজুড়ে সরিষা। এ শীত মৌসুমে সরিষা চাষ বেশি হয় দিনাজপুরে। দৃষ্টিনন্দন এমন অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রামবাংলায় ছুটে আসে অনেকে। সরিষা ক্ষেতও যেন একটি বিনোদন কেন্দ্র।কৃষি ভিত্তিক দিনাজপুরে সারা বছরই নানা ধরনের ফসল উৎপন্ন হয়।

এবার জেলায় সরিষা চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক। কম খরচ আর লাভ বেশির আশায় এবার সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষক। গত কয়েক বছরে এই এলাকার চাষিরা মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তাই এবারেও সরিষা চাষ বেশি হচ্ছে।কৃষি বিভাগের মতে, গত ২০২০—২০২১ অর্থবছরে দিনাজপুর জেলাতে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করেন এই এলাকার চাষিরা।

কিন্তু ২০২১ ২০২২অর্থবছরে তা বেড়ে গিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ৯৯৮ এ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।এদিকে, দিনাজপুরে সরিষা চাষের সাথে সাথে চাষ করা হচ্ছে মৌমাছির। এতে করে সরিষার উৎপাদনও বেশি হচ্ছে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন।কৃষক মকবুল জানান, আমন এবং বোরো চাষের মধ্যবর্তী সময়ে সরিষা চাষ করলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। পরের ফসলের জন্য খুব বেশি চাষ করতে হয় না।

জৈব সারও দিতে হয় না। অন্যদিকে মাত্র দুটি চাষ দিয়েই সরিষা চাষ করা যায়। সরিষা আবাদে কোনো প্রকার সেচ লাগে না। সার ও কীটনাশকও প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে কম খরচে বেশি লাভ পাওয়া যায়। কম সময়ে সরিষার ফসল ঘরে তোলা যায় বলে একটি জমিতে তিন বার আবাদ করা যায়। আর এসব কারণেই দিন দিন সরিষাার আবাদ বাড়ছে।কৃষক রফিকুল ইসলাম জানায়, সরিষা শাক হিসেবেও বেশ সুস্বাদু। এক একর জমিতে সরিষা আবাদ করতে খরচ হয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। প্রতি একরে ১৫ মণ সরিষা উৎপাদন করেন তারা। বাজারে ২ হাজার টাকা মণ দরে সরিষা বিক্রি হয়।

ফলে খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় চাষিদের। এ বছর আবহাওয়া অত্যন্ত ভাল থাকায় ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।কৃষাণি ফুলমতি জানান, গতবার এক বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম। এবার তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। এ ফসলটা বোরো এবং আমন চাষের জন্য উপকারী। তাছাড়া বাড়তি আয়ও হচ্ছে। তৃতীয় ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে বাড়তি আয় করতে পারছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন বৃদ্ধি পাবে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানান, কৃষি বিভাগ থেকে এ বছর উপজেলাগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার চাষিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রণোদনা সহায়তা দেয়া হয়েছে। কৃষকদেরকে উন্নত জাতের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি চাষ করলে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফলন বেড়ে যাবে।