তাজমহলের ২২ রহস্যময় ঘর খুলতে আদালতের দ্বারস্থ বিজেপি (ভিডিও)

61

তাজমহল। স্ত্রীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে পৌনে ৪০০ বছর আগে সেই মোগল আমলে অসাধারণ এই সমাধিসৌধ নির্মাণ করিয়েছিলেন তৎকালীন মোগল সম্রাট শাহজাহান। ২০ হাজার শ্রমিক ২২ বছর ধরে নির্মাণ করেছিলেন অনবদ্য এই স্থাপত্যশৈলী।

বলা হয়ে থাকে, তাজমহলের কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণ শ্রমিকদের হাতের আঙ্গুল নাকি কেটে দেয়া হয়েছিল। তারা অন্য কোথাও তাজমহলের মতো স্থাপনা যাতে তৈরি করতে না পারে সেজন্যই নাকি এমন নিষ্ঠুর পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল। ১৬৪৮ সালে তাজমহলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। সম্পূর্ণ সাদা মার্বেলে তৈরি হয়েছে তাজমহল। সেই আমলে এটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় সোয়া ৩ কোটি রুপি।

২২টি গোপন কুঠুরি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে তাজমহলের ভেতরে। সম্প্রতি সেগুলো খোলার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি এই সমাধিসৌধে মন্দির ছিল কিনা তা-ও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ইলাহাবাদ উচ্চ আদালতে এই আবেদন করে বিজেপি।

রোববার, ৮ মে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাজমহলের ২২টি বন্ধ ঘর খোলার আর্জি জানিয়ে আদালতে আবেদনে করা হয়েছে। সত্য-মিথ্যা যাই হোক না কেন তা অবশ্যই প্রকাশ্যে আনতে হবে।

তাজমহল নির্মাণের সময় অনেকগুলো ঘর তৈরি করিয়েছিলেন সম্রাট শাহজাহান। মূল সমাধিস্থলের নিচে রয়েছে ২২টি ঘর যেগুলো বহুদিন ধরে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেউ সেগুলো দেখার সুযোগ পায়নি। কারও কারও ধারণা, গোপন কুঠুরিগুলোতে হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাজমহলের প্রধান হলঘরে দুটি সমাধি দেখা যায়। কিন্তু সেগুলো আসল সমাধি নয়। হলঘরে ঢোকার মুখেই একটি সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে যার দরজা সবসময় বন্ধ থাকে। ধারণা করা হয়, মমতাজ এবং সম্রাট শাহজাহানের আসল দুটি সমাধি সেখানেই রয়েছে।

তাজমহলের উত্তর দিকে যে বড় প্ল্যাটফর্ম রয়েছে সেখান থেকে নিচের দিকে নেমে গেছে জোড়া সিঁড়। সেখানে রয়েছে গোপন কুঠুরি যার সবগুলোই তালাবন্ধ। ঠিক এর নিচেই রয়েছে একটি বারান্দা। বারান্দাটি চলে ঘেছে ধরে মূল সমাধিস্থলের নিচ পর্যন্ত। ব্রিটিশ আমলের একটি নথিতে উল্লেখ আছে, বারান্দার নিচে চোরাকুঠুরি থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে এমন খবর চাউর হয় যে, ওই বারান্দার নিচে যে চোরাকুঠুরি আছে তাতে নাকি গুপ্তধন রয়েছে।

অবশ্য ওই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তিবাদীরা। তাদের ভাষায়, সাদা মার্বেল পাথরের তৈরি ঘরগুলোতে লোকজনের ভিড় বেশি হলে তাদের নিঃশ্বাস থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় মূল কাঠামোর শ্বেতপাথরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত এই কারণেই ঘরগুলো তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি এক হিন্দু সন্ন্যাসী দাবি করেছেন, তাজমহল নাকি আসলে একটি তেজো মহালয় মন্দির। কৃষ্ণের জন্মভূমি মথুরায় শাহী মসজিদ এবং উত্তরপ্রদেশে বিশ্বনাথ মন্দির লাগোয়া জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। সেই তালিকায় এবার তাজমহলের নামও যোগ হলো। বলাই বাহুল্য, বিষয়টি হিন্দুরাজ্যে ইসলামী স্থাপত্য নিয়ে ফের বিতর্ক উস্কে দেবে।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয় ১৯৯২ সালে। তখনই কট্টোর হিন্দুপন্থীরা ঘোষণা দিয়ে বলেছিল, ইয়ে তো স্রেফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী-মথুরা বাকি হ্যায়। নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরপরই তারা কাশী ও মথুরায় মসজিদ সরানোর দাবি তোলে। ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা চলা অবস্থাতেই তাদের দাবির তালিকায় এবার যোগ হলো ইসলামি স্থাপত্যের আরেক নিদর্শন তাজমহল।