ডেসটিনির এমডির ১২ বছর কারাদণ্ড (ভিডিও)

64

১২ বছরের কারাদণ্ড পেলেন ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরচিালক (এমডি) রফিকুল আমীন। আর চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদকে দেওয়া হয়েছে ৪ বছরের কারাদণ্ড। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুদকের দায়েরকৃত মামলায় কারাদণ্ড পেয়েছেন তারা। এছাড়া অ্যাসেট ডিসবার্সমেন্ট কমিটি গঠন করতেও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। এই কমিটির মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে হবে ডেসটিনিকে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মামলা করেছিল ২০১২ সালে। দীর্ঘ দশ বছর পর অবশেষে মামলাটির রায় হলো। এটি ছাড়াও ডেসটিনির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বৃক্ষরোপন প্রকল্পে অর্থ-আত্মসাতের আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১২ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায় দেন। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার বাকি ৪৪ জন আসামিকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলার ৪৬ জন আসামির মধ্যে ৩৯ জনই পলাতক।

রায়ের সময় বিচারক উল্লেখ করেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে চেয়ারম্যান করে অ্যাসেট ডিসবার্সমেন্ট কমিটি গঠন করতে হবে।এই কমিটি আসামীদের ক্ষতিপূরণের টাকা ডেসটিনির প্রতারিত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের ব্যবস্থা করবে।

উল্লেখ্য, এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি ২০০৮ সাল থেকে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রোজেক্টের নাম ভাঙিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১,৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। সেখান থেকে ১,৮৬১ কোটি টাকাই আত্মসাৎ করা হয়। এতে ডেসটিনির সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির সম্মুখীন হন।

এছাড়া ডেসটিনি বৃক্ষরোপন প্রোজেক্টের নাম ভাঙিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২,৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে ২,২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়েন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী।

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ২০১২ সালে দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এর মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ৪৬ জন এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন লিমিটেডের দুর্নীতির মামলার ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

বর্তমানে কারাভোগ করছেন ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন। অন্যদিকে জামিনে মুক্ত আছেন লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, লে. কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলম, মিসেস জেসমিন আক্তার, জিয়াউল হক মোল্লা এবং সাইফুল ইসলাম রুবেল।