ডিমলায় কৃষকেরা হতাশাগ্রস্থ

161

ডিমলায় গত শুক্রবার ভোর রাত থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা মাঝারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হওয়ায়  হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে কৃষকেরা। বিশেষ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আলুচাষীরা। 

বৃষ্টি পাতের ফলে নীলফামারী ডিমলা উপজেলা বেশ কিছু ইউনিয়নে আলুর ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায়, পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। উপজেলার নাউতারা ইউনিয়ন কৈপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক লেবু বলেন, আমি এবার ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। রাত থেকে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে সব আলু পঁচে যেতে পারে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) সেকেন্দার আলী বলেন টানাবৃষ্টি পাতের ফলে  ফসলের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে আলু ক্ষেতগুলোতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে পঁচে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এই সমস্যা উত্তোরনে কৃষী বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টিতে হাড় কাপানো শীত জেঁকে বসেছে। বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে কৃষকগন ফসলি মাঠে নামতে না পারায় ইরি বোরো রোপন কার্যক্রম ও  ব্যহত হচ্ছে।

এদিকে বৃষ্টির কারণে ডিমলার রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমেছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষ কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভাড়া না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অটোরিক্সা-ভ্যানচালকরা। এ ব্যাপারে কথা হয় নাউতারা সোনামনির ডাঙ্গা অটোরিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম, ইসাহাক আলী, আবদুর  রশিদ বলেন, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি ভাড়ার মুখ দেখতে পারিনি। মানুষজনের চলাচলও তেমন নেই। এ সময় দেখা মেলে ভ্যান চালক আল আমীন ইসলামের সঙ্গে তিনি  বলেন সকালে ৫০ টাকার মতো আয় হলেও, আজ যাত্রীদের দেখা নেই। ডালিয়া বটতলি মোড়ে বসা বসে থাকা আব্দুল হাফিজুল ইসলাম বলেন  সকাল থেকে বসে আছি আজ মনে হয় কপালে ভাড়া জুটবে না। বাড়িতে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
অপর দিকে দমকা বাতাসের কারনে সকাল ১১টা থেকে নীলফামারী জেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় নেসকো জানান, ঝড়ো বাতাসের কারনে বিদ্যুতের সরবরাহ লাইনের তারে ক্রুটি দেখা দিয়েছে। যা সারিয়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ডিমলা  আবহাওয়া অফিস সুত্র জানা যায় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বৃষ্টি আছে। আপাতত বৃষ্টিপাতের কোন সম্ভাব নেই।কুয়াশা দুই-একদিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে।  গত ২৪ ঘন্টায় তাপমাত্রা ১২দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছিল রেকর্ড করা হয়েছে। 

খনার বচন আছে ‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্যদেশ।’ খনা মাঘের শেষের বৃষ্টিকে আশীর্বাদপূর্ণ আখ্যা দিয়েছিলেন তার সময়ের কৃষি-পঞ্জিকামতে। ফলে মাঘের শেষে বৃষ্টি হলে জমি নরম ও সরস হয়, চাষাবাদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। তবে দমকা বাতাস ও বৃষ্টি জনজীবনকে আরও বেশী কাহিল করে তুলেছে।