ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণর মামলায় গ্রেফতার ২

105
৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আশরাফুল (২২) ও মতিউর (২০) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আশরাফুল (২২) ও মতিউর (২০) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আশরাফুল (২২) ও মতিউর (২০) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদরের পুরাতন ঠাকুরগাঁও বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করে রুহিয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া আশরাফুল পুরাতন ঠাকুরগাঁও এলাকার মোকলেসুরের ছেলে, অপর আসামি মতিউর চিলারং বাসগাড়া এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি মধ্য রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয় ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রী। পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঠাকুরগাঁও রুহিয়া থানায় মেয়ের বাবা বাদি হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা হাফিজ জানান, ঘটনার দিন রাত ১২ টার দিকে পরিবারের সকলে রাতের খাওয়া—দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তিনি বাড়ীর আঙিনায় মেয়ের কান্নার আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে দেখেন, তার মেয়ের গাল বেয়ে রক্ত ঝড়ছে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচড়ের চিহ্ন। পরে রাতেই ঢোলারহাট বাজারের পল্লী চিকিৎসক লিজা বিশ্বাসের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে স্থানীয় মেম্বারকে বিষয়টি অবগত করেন। সকালে স্থানীয় মেম্বার ও মেয়েকে নিয়ে রুহিয়া থানায় অভিযোগ দিতে গেলে মেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পরে। পরে পুলিশের গাড়ীতেই ভুক্তভোগি মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ঐ ছাত্রী হাসপাতালের বেডে কান্নাজড়িত কন্ঠে বর্বরতার ঘটনা বর্ণনা করে জানান, ঘটনার দিন প্রেমিক সুজন এর ফোন পেয়ে বাড়ীর সকলের অগোচরে ঘর থেকে মেয়েটি বেড়িয়ে আসে দেখা করতে। পরে সুজন ও তার বন্ধুরা তাকে মটরসাইকেল যোগে একটি মুরগীর খামারের ভিতরে নিয়ে গিয়ে প্রেমিক সুজন ও সুজনের বন্ধু আশরাফুল,বিপ্লব, আরিফসহ চার—পাঁচজন মিলে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এসময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে, পরে জ্ঞান ফিরলে দেখে সে তার বাড়ীর পাশের রাস্তায় পড়ে রয়েছে। পরে সেখান থেকে কোনরকমে সে বাসায় পৌঁছায়। সুজন ঠাকুরগাঁও ইসলামনগর হাইস্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।

এ বিষয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দোষিদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামিদের অবস্থান নিশ্চত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।