টঙ্গীতে গণধর্ষণের অভিযোগে ৩ যুবক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গীতে নারী (২৪)কে গণধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে টঙ্গীর মিরাশপাড়া নদীবন্দর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার যুবকেরা হলেন টঙ্গীর মিরাশপাড়া এলাকার জাবেদ মিয়ার ছেলে মো. শাওন (২৪), নবীন হোসেনের ছেলে নাদিম হোসেন (১৯) ও গাজী সালাউদ্দিনের ছেলে গাজী সাকিবুজ্জামান সিয়াম (২১)। তাঁরা একই এলাকায় বাস করতেন।

ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, ‘শাওন আমার পূর্বপরিচিত। কয়েক মাস আগে আমার বিয়ে হয়। আমি মিরাশপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে বাস করি। গতকাল সকালে মোবাইল ফোনে কল করে শাওন দেখা করতে চায়। আমি ওই স্থানে গেলে একটি ঘরে আমাকে নিয়ে যায়। পরে আমার ওড়না দিয়ে চোখ বেঁধে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় শাওন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে কাউকে কিছু জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। বাসায় ফিরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে আমাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।থ
এ বিষয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) সাব্বির হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবক শাওনের সঙ্গে ওই নারীর আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গতকাল সকালে ওই নারীকে বাসা থেকে মোবাইলে ডেকে ওই এলাকার মৃত গাজী আলাউদ্দিনের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে ওই নারীর চোখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন আসামিরা। এ সময় ঘটনাটির ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন শাওন। পরে ওই নারীকে ছেড়ে দেন আসামিরা।উপপরিদর্শক আরও বলেন, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী বাসায় ফিরে জাতীয় জরুরি পরিষেবা—৯৯৯ —এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও ঘটনাটির ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশফুল ইসলাম ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী ওই নারীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।