চিকিৎসকের অবহেলায় মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

72

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বর থাকা সহকারি চিকিৎসক  আলমগীর হোসেনের অবহেলায় শ্বাস কষ্টের রোগী ফরিদা পারভীনের মৃত্যু হয়েছে। 

এমন অভিযোগে ওই সহকারী চিকিৎসকের    দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে  সংবাদ সম্মেলণ করেছেন চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু বরণ করা  নারী ফরিদা পারভীনের মেয়ে আঞ্জুমান নাহার প্রমা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আঞ্জুমান নাহার প্রমা  বলেন, আমার মায়ের শ্বাস কষ্ট শুরু হলে গত ১৩ জুন বিকালে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। আমার বাবা জীবিত নেই, কোন ভাইও নেই। সে কারণে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রতিবেশী ছাত্রলীগ নেতা ইমনের সহায়তা চাই।

তখন  ইমন ও তার বন্ধুদের সহায়তায় আমার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এ সময় দায়িত্বরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার  (সেকমো) আলমীর হোসেন আমার মাকে কোন চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফেলে রাখেন। এমনকি তিনি তখন আমাদের কোন কথাই শুনছিলেন না। পাঁচ মিনিট ডাকাডাকি করেও তাঁর কোন সাড়া পাইনি। একবার এসে শুধু প্রেসার মেপে চলে যান। এমনকি শ্বাস কষ্টের রোগীকে কোন অক্সিজেনও দেননি তিনি। ওই সময় আমার মা শ্বাস কষ্টে কাতরাচ্ছিলেন। 

তখন জরুরি বিভাগে কোন এমবিবিএস চিকিৎসক ছিলেন না। আমার অন্য আত্মীয়রা আলমগীরকে চিকিৎসার জন্য বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কোন চিকিৎসা না দিয়েই আমার মা কে  ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  রেফার করে দেন।

এ সময় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের নাম্বার চাইলে আলমগীর একবার বলেন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ইউএইচএফপিও ম্যাডাম ঘুরতে বের হয়েছেন,  আরেকবার বলেন নেত্রকোনা রোগী নিয়ে গেছে। এভাবে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ক্ষেপন করেন। শেষে আমরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রওনা হই। কিন্তু বারহাট্টা পার হয়েই আমার মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান। 

প্রমা আরও বলেন, সহকারী চিকিৎসক  আলমগীর হোসেনের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। সঠিক সময়ে আমার মা কে  চিকিৎসা দেওয়া হলে এমন ঘটনা হয়তো ঘটতো না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনার বিচার চাই।  কিন্তু  এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো  ইমনকে আসামি করে মামলা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এটা আরও দুঃখজনক। আমি একজন অসহায় মেয়ে হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। 

উল্লেখ্য- এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ নেতা ইমনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয় সহকারী চিকিৎসক  আলমগীর হোসেনের। এতে আলমগীর তার ওপর হামলার অভিযোগ আনেন। পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মাহমুদা খাতুন বাদী হয়ে মামলা করলে ১৫ জুন ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ও মোহনগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইমনের মুক্তি চাওয়ার পাশাপাশি সহকারী চিকিৎসকের শাস্তি দাবি করছে।