চাটমোহরে সেচ চার্জ বাবদ সিকি ভাগ বোরো ধান আদায় নিয়ে সেচ যন্ত্র মালিক-কৃষক মুখোমুখি

0
124
চাটমোহরে সেচ চার্জ বাবদ সিকি ভাগ বোরো ধান আদায় নিয়ে সেচ যন্ত্র মালিক-কৃষক মুখোমুখি
চাটমোহরে সেচ চার্জ বাবদ সিকি ভাগ বোরো ধান আদায় নিয়ে সেচ যন্ত্র মালিক-কৃষক মুখোমুখি
Spread the love

চাটমোহর (পাবনা)  প্রতিনিধিঃ বোরো ধান পাকার সময়ে এসে সেচ চার্জ আদায় বাবদ কৃষকের নিকট থেকে সেচ যন্ত্রের মালিকদের  সিকি ভাগ (চার ভাগের এক ভাগ) ধান আদায়কে কেন্দ্র করে পাবনার চাটমোহরের সেচযন্ত্র মালিক ও কৃষক এখন মুখোমুখি অবস্থানে। এ নিয়ে বুধবার (৪ মে) উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের পার্শ্ববর্তী জোড়দহ

(ডাকাতের ভিটায়) আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে ধুলাউড়ি এলাকার ব্যক্তিগত ভাবে পরিচালিত গভীর ও অগভীর সেচযন্ত্র মালিকদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় সাবেক সংসদ সদস্য ও গভীর নলকূপ মালিক একেএম সামসুদ্দিন খবির, আতাউর রহমান চাঁদ, সাবেক ইউপি সদস্য আফতাব উদ্দিন সোনা, মহসীন আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জানা গেছে, প্রথা অনুযায়ী সেচ যন্ত্রের মালিকরা উৎপাদিত ধানের চার ভাগের এক ভাগ নিতে চাচ্ছেন অপর দিকে কৃষক ২০২১ সালের উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেচ চার্জ বাবদ বিঘা প্রতি গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯০০ ও অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দিতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে কৃষকদের সাথে সেচ

যন্ত্রের মালিকদের বাক বিতন্ডা হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিভন্ন গ্রামে মাইকিং করে কৃষককে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান সেচ যন্ত্র মালিকদের দিতে বলায় কৃষক খুশী হলেও ক্ষুব্ধ সেচ যন্ত্রের মালিকরা।

গভীর ও অগভীর সেচযন্ত্র মালিকদের এক সভায় সাবেক সংসদ সদস্য ও গভীর নলকূপ মালিক একেএম সামসুদ্দীন খবির জানান, গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলা সেচ কমিটি ইরি বোরো মৌসুমে কৃষকের জমিতে সেচ বাবদ গভীর নলকূপ (সকল ক্ষেত্রে) ১ হাজার ৯০০ টাকা প্রতি বিঘা ও অগভীর নলকূপ (সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) ১

হাজার ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও সেচ যন্ত্র মালিকদের এ সংক্রান্ত কোন নোটিশ প্রদান করেন নি। এমনকি চলতি মৌসুমের শুরুতেও উপজেলা সেচ কমিটি আমাদের এ সংক্রান্ত কোন নোটিশ করেননি। কোন কৃষকও জমিতে সেচ নেওয়ার জন্য টাকা পরিশোধ করেন নি। এখন ধান কাটার ঠিক আগ মুহুর্তে এসে মাইকিং করে কৃষকদের পাঁচ

ভাগের এক ভাগ ধান দিতে বলা হচ্ছে। এটা কেমন নিয়ম। আমাদের পার্শ্ববর্তী সকল উপজেলায় চার ভাগের এক ভাগ ধান নিচ্ছেন সেচ যন্ত্রের মালিকরা। আমরা সরকারের নিয়ম অবশ্যই মানবো। তবে যথা সময়ে আমাদের সে নিয়ম জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। ধান কাটার সময়ে এসে আমাদের ভাই ভাইয়ে যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের

সাথে আমাদের মুখোমুখি দাড় করানো হচ্ছে। কৃষক ও সেচ যন্ত্রের মালিকদের মধ্যে বিবাদ বাধাতে কিছু মানুষ ওৎ পেতে আছে। সরকারের ভাবমুর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে তারা এমন কাজ করছে। তিনি আরো জানান, অনেক বছর আগে এ নিয়ে বাক বিতন্ডা হয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান সরেজমিন পরিদর্শনে এসে

জমি গুলো এক ফসলী দেখে চার ভাগের এক ভাগ ধান দেওয়ার নির্দেশ দেন।আব্দুর রাজ্জাক, আফতাব উদ্দিন, মহসীন আলীসহ অন্যান্য সেচ যন্ত্র মালিক জানান, ড্রাইভারের পারিশ্রমিক বেড়েছে, ট্রান্সফরমার ওঠানো নামানোতে খরচ হয়। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। ড্রেন পরিষ্কারে খরচ হয়, সেচ যন্ত্র পুড়ে গেলে মেরামত করতে

হয়। শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির পাম্প দশ বারো ফিট নিচে বসাতে হয়। কখনো কখনো অতিরিক্ত সেচ যন্ত্র ব্যবহার করে জমিতে পানি দিতে হয়। কৃষকের ধান উৎপাদন করে দিতে আমাদের নাস্তানাবুদ হতে হয়। কোন কোন বছর ঝড় শিলা বৃষ্টিতে আমাদের অনেক লোকসান ও হয়। এমতাবস্থায়ও আমরা

ধান উৎপাদন করে আসছি। বোরো ধান চাষ শুরুর আগে উপজেলা সেচ কমিটি  আমাদের নোটিশ করে বিষয়টি জানালে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম ধান চাষ করবো, নাকি করবো না। এখন ধান কাটার সময়ে এসে আমাদের উপর এ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেচ যন্ত্র মালিকগণ কর্তৃক বোরো ধানের সিকি ভাগ আদায়কে কেন্দ্র করে উপজেলার নিমাইচড়া, পার্শ্বডাঙ্গাসহ বেশ কিছু ইউনিয়নে হযবরল অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকেরা এ অবস্থার অবসান চান।    এ ব্যাপারে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ধান

নেওয়ার বিধান নাই। বিষয়টি নিরসনের লক্ষে গভীর ও অগভীর নলকূপ মালিক ও কৃষকদের সাথে মত বিনিময় করে সেচ চার্জ বাবদ বিঘা প্রতি গভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯০০ টাকা ও অগভীর নলকূপের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯৫০ টাকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পাঁচ ভাগের এক ভাগ ধান নেওয়ার মাইকিং এর ব্যাপারে আমার কিছু জানা

নেই। সেচ যন্ত্র মালিকরা যে কথা বলছেন তা অবান্তর। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সভা করা হয়েছে। কৃষক ও সেচ যন্ত্র মালিকদের জানানো হয়েছে। তবে কৃষক ও সেচ যন্ত্রের মালিকরা সমন্বয় করে টাকার পরিবর্তে সম মূল্যের ধান নিতে পারেন।