চাঁপাইনবাবগঞ্জের আগাম আমের মুকুলের দেখা ম-ম বইছে সুভাসের ঘ্রান

171

বদিউজ্জামান রাজাবাবু চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ চলছে মাঘ মাস, শীতের তীব্রতাও বেশ। এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কিছু এলাকায় আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বাতাসে মুকুলের ম-ম সুভাস বইছে। ইতিমধ্যে বাগানমালিকেরা পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে, বিশেষ করে কানাসাট, ধাইনগর, হাজারবিঘী, রসুলপুর, মনাকষা, এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার আমগাছে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে। আমের মুকুলে এখন মৌমাছির গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ কাছে টানছে। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায়; তাই চলছে ভ্রমরের সুর ব্যঞ্জনা।

মনাকষা এলাকার আমচাষি দবির আলী বলেন, ‘গত বছর আমার তিন বিঘা আশ্বিনা আমের বাগান ছিল। প্রথম থেকে পরিচর্যা করতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। আম বিক্রি করে পেয়েছি প্রায় ৩ লাখ টাকা। এবার ওই তিন বিঘা জমির বাগানে ফের পরিচর্যা শুরু করেছি। আগাম মুকুল দেখার পর থেকে মনটা ভালোই লাগছে। এই মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে।

’শ্যামপুর ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের মজিবুর রহমান বলেন, তাঁর নিজ জমিতে দুই বিঘা হিমসাগর আমের বাগান রয়েছে। তাই বাগান পরিচর্যা করা শুরু করেছেন তিনি। কিছু গাছে মুকুল এসেছে। ভালো পরিচর্যা হলে সব গাছেই মুকুল আসবে। এই দুই বিঘা জমি থেকে গত বছর প্রায় আড়ায় লাখ টাকার আম বিক্রি করেন তিনি। আর বাগান পরিচর্যাসহ খরচ হয়েছিল ৪০ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েক বছর থেকেই আম ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তবে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের আমগাছ রোপণের ফলে ফের স্বাবলম্বী হতে শুরু করেছেন। এবার এখন পর্যন্ত আমের জন্য আবহাওয়া ভালো। আশা করা যাচ্ছে, এ বছর প্রায় সব গাছেই মুকুল ফুটবে। এ জেলায় মোট ৩৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।